দুর্গাপুজোর (Durga Pujo) সরকারি অনুদান পেতে এ বার বাধ্যতামূলক পুজো কমিটির নিজস্ব প্যান কার্ড (Pan Card) ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (Bank Account)। পুজোর অনুমতির আবেদনের সঙ্গে অনুদানের জন্য আবেদন করতে গিয়ে এই নথি জমা দিতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। আর এই নতুন নিয়মেই সমস্যায় পড়েছে রাজ্যের বেশ কিছু পুজো কমিটি। এত দিন কোনও কমিটির নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট না থাকলে কমিটির কোনও পদাধিকারীর প্যান ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনুদান পাওয়ার সুযোগ ছিল। এ বার সেই ব্যবস্থা বন্ধ করে সরাসরি পুজো কমিটির অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: পুজোর আগেই পাহাড়ে খুশির খবর! সিকিমের চিড়িয়াখানায় জন্ম নিল ৬টি খুদে রেড পান্ডা


নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পুজো কমিটির নামে থাকা প্যান কার্ড এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। এই তথ্য না থাকলে অনুদানের ক্ষেত্রে থানার তরফে সহযোগিতা করা সম্ভব নয় বলে কয়েকটি কমিটিকে জানানো হয়েছে। ফলে বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনুদান নেওয়া পুজোগুলির সামনে তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যা।


যেমন, মহেশতলা এলাকার বেগরখাল জোড়াবেড়ি সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সমস্যাটিও তেমনই। প্রায় ১৫ বছর ধরে পুজো করে আসা এই কমিটি এত দিন সভাপতি প্রভাত চক্রবর্তীর প্যান নম্বর এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরকারি অনুদান পেয়েছে। এ বার পুজোর অনুমতির জন্য আবেদন করতে গিয়ে মহেশতলা থানার কাছ থেকে নতুন নিয়মের কথা জানতে পারে তারা। এরপর কমিটির নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি ও নিবন্ধনের কাজ শেষ করা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে কমিটির দাবি।  তবে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতার প্রশ্নে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের সভাপতি সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, কোনও সংগঠনের আর্থিক লেনদেন হলে তার নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং প্যান থাকা উচিত। সরকারি অনুদানের পাশাপাশি পুজোর বিজ্ঞাপনের টাকাও যাতে স্বচ্ছ ভাবে লেনদেন হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

 

প্রসঙ্গত, ৭ সেপ্টেম্বর পুজো কমিটিগুলির (Durga Pujo Committee) সঙ্গে বৈঠকে এ বছরের সরকারি অনুদানের পরিমাণ কমিটি-পিছু এক লক্ষ টাকা করার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান না নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। পুজো কমিটিগুলির জন্য বিদ্যুৎ বিলে সম্পূর্ণ ছাড় এবং দমকলের ছাড়পত্রের ফি মকুবের কথাও জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই কলকাতার একাধিক বড় পুজো কমিটি সরকারি অনুদান না নেওয়ার কথা জানিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনের পর কয়েকটি পরিচিত পুজো কমিটি অনুদানের আবেদন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সূত্রের খবর।