নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই বড়সড় আইনি বিপাকে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। একই দিনে হলদিয়া এবং কাঁথি মহকুমা আদালতে ভার্চুয়াল শুনানির পর বিচারক আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। অর্থাৎ, ভোটের আগের দিন পর্যন্ত কংগ্রেস প্রার্থীকে কার্যত কারাগারেই কাটাতে হচ্ছে, যা নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
গত শুক্রবার চণ্ডীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল মিলনকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৭ সালের ১৯ বছরের পুরনো একটি খুনের মামলা-সহ খুন, খুনের চেষ্টা, বেআইনি জমায়েত এবং লুটপাটের অভিযোগে নন্দীগ্রাম থানায় তিনটি ও খেজুরি থানায় একটি মামলা রুজু রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঘটনাচক্রে, মিলনের গ্রেফতারির কিছুক্ষণ আগেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন যে তাঁর দল নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন জানাবে। তার পরেই এই ধরপাকড় ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে যায়।
এর আগে গত শনিবার নন্দীগ্রাম থানার তিনটি মামলায় হলদিয়া আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক তাঁকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সোমবার খেজুরি থানার মামলায় কাঁথি মহকুমা আদালতে তাঁর হাজিরার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এর মাঝেই নন্দীগ্রাম থানায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে আরও একটি মামলা দায়ের হয়। ফলে একই দিনে পৃথক দুই আদালতে সশরীরে হাজিরা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় হলদিয়া উপ-সংশোধনাগার থেকেই ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেন মিলন।
শুনানি শেষে হলদিয়া মহকুমা আদালত তাঁকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। অন্য দিকে, কাঁথি মহকুমা আদালতের বিচারক যাবতীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর মিলনকে সশরীরে এজলাসে হাজির করানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মিলনের আইনজীবী মাসুদ মল্লিক জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা দায়ের হয়েছে। মোট কতগুলি মামলা তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে তা নিশ্চিত হতে ইতিমধ্যে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছে এবং মঙ্গলবারই সেই আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা।
এদিকে প্রার্থী জেলবন্দি থাকায় নন্দীগ্রামে ভোটপ্রচারে চরম বাধা তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে প্রদেশ কংগ্রেস। দলের নেতৃত্বের দাবি, প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে যাঁরা প্রচার বা পথসভায় অংশ নিচ্ছেন, শাসকদল ও পুলিশ যৌথ ভাবে তাঁদের ভয় দেখাচ্ছে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশের কোনও সরকারি দফতর থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ভোটগ্রহণের মাত্র কয়েক দিন আগে প্রার্থীর এমন আইনি জট ও প্রচার ঘিরে টানাপড়েনে নন্দীগ্রামের নির্বাচনী আবহ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
















