প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির পঠনপাঠন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটল রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর। দীর্ঘদিন ধরে অননুমোদিত অনুপস্থিতি বা নিয়মবহির্ভূত ছুটির ক্ষেত্রে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দফতরের এই পদক্ষেপ ঘিরে শিক্ষক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, স্কুল শিক্ষা কমিশনার নিখিল নির্মল রাজ্যের সমস্ত জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের (প্রাথমিক শিক্ষা) উদ্দেশ্যে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন। সেখানে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষকদের অননুমোদিত ছুটি বা অমীমাংসিত অনুপস্থিতির বিষয়গুলি খতিয়ে দেখতে হবে। নিয়মমাফিক ছুটি মঞ্জুর না হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কেন পদক্ষেপ করা হবে না, তা নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই বিষয়ে যাবতীয় তথ্য ও গৃহীত পদক্ষেপের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
স্কুল শিক্ষা দফতরের একাংশের মতে, প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার মান ও পরিকাঠামো সুদৃঢ় করার জন্য শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের বকেয়া প্রশাসনিক বিষয়গুলি নিষ্পত্তি করতেই এই তৎপরতা।
অন্য দিকে, এই নির্দেশিকা ঘিরে প্রাথমিক শিক্ষক মহলে অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক প্রতিনিধিদের একাংশের বক্তব্য, বহু ক্ষেত্রে ছুটির আবেদন দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটকে থাকে। প্রশাসনিক স্তরের দেরির কারণে শিক্ষকদের উপর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে শূন্যপদ পূরণ, স্কুলে পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবি যেখানে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত, সেখানে এমন কড়া পদক্ষেপ শিক্ষকদের উপর মানসিক চাপ বাড়াবে বলেও মনে করছেন অনেকে।
















