বারুইপুরের মৃত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। পরিবারকে পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি আইনি সাহায্য দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, তৃণমূল (TMC) সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) রবিবার পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রশাসন সেটা করতে দেয়নি। কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি নিজে গিয়ে পরিবারের লোকেদের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানান অভিষেক।

শনিবার বিকেলে খাবার কেনার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ১১ বছরের নাবালিকা। দীর্ঘক্ষণ কেটে গেলেও সে বাড়ি ফেরেনি। রাতভর আত্মীয়স্বজন ও আশেপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনও হদিস পায়নি। পরিবারের অভিযোগ, এলাকারই চার যুবক ওই নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। রবিবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি পুকুরে ওই নাবালিকার দেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। এই খবর ছড়াতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নাবালিকাকে ধর্ষণ করার পর তথ্য প্রমাণ লোপাট করতে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে এক অভিযুক্তের। 

এরপরে রাতে অভিষেক ফোনে কথা বলেন মৃতার পরিবারের সঙ্গে। কান্নায় ভেঙে পড়েন নাবালিকার মা ও পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের শান্ত থাকার আর্জি জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। একই সঙ্গে তিনি জানান, তৃণমূল তাঁদের পাশে আছে। যা আইনি সহায়তা এই পরিবারের প্রয়োজন সেটা তাঁরা দেবেন বলে আশ্বাস দেন অভিষেক। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার দোষীদের ফাঁসির দাবি করা হয়। আইন হাতে তুলে না নেওয়ার পরামর্শ দেন তৃণমূল সাংসদ। একই সঙ্গে তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবারই বারুইপুর যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রশাসন যেতে দেয়নি। অভিষেক নিজে কয়েকদিনের মধ্যেই পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়াবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

এর আগে ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তিনি লেখেন, " রাজ্যে এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে রাজনৈতিক যোগাযোগ বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে প্রতিনিয়ত। যেখানে আইনের শাসনের থেকে প্রভাব-প্রতিপত্তিই বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে বারবার। যেখানে ন্যায়বিচারকে রাজনৈতিক চাপে দমিয়ে রাখা হচ্ছে। তা নিয়ে তৈরি হচ্ছে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। বারুইপুরের এই ভয়াবহ ঘটনার নেপথ্যে আসল ট্র্যাজেডি হল এটাই! নারীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপি বাংলায় এসেছিল। অথচ, এ ধরনের প্রতিটি ঘটনা তাদের 'ফাঁপা প্রতিশ্রুতি' নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। তাদের এই নীরবতা অনেক কিছু বলে দিচ্ছে।"

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের SIT গঠন করা হয়েছে। আরও দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলায় পুলিশকর্মীদের উপর হামলা এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। অন্য মামলাটি গণপিটুনির ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যাতে এক অভিযুক্ত যুবকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই ঘটনায় মোট চারজন ব্যক্তি যুক্ত।