বাংলাদেশে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর প্রতিনিধি সভাকে কেন্দ্র করে ঢাকায় উত্তেজনা। জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্মেলন চলাকালীন সময়ে আচমকাই হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে বিএনপির (BNP) যুব সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুব দলের বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, শনিবার প্রায় ২০০ জনের একটি দল জাসদ দফতর ঘিরে ফেলে। আর তারপরেই সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও মারধর শুরু করে। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ৩৫০ জাসদ কর্মীকে আটক হয়।

আরও পড়ুন: সুপারি কিলার দিয়ে খুনের চেষ্টা হয়েছে, বেলেঘাটায় প্রাণঘাতী হামলার পর বিস্ফোরক কুণাল

জাসদের (Jasad) অভিযোগ, বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে দলের প্রতিনিধি ও নেতা-কর্মীরা প্রতিনিধি সভায় যোগ দিতে ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসেছিলেন। তাঁদের দাবি, কর্মসূচির বিষয়ে আগেই পুলিশকে (Police) লিখিত ভাবে জানানো হয়েছিল। নিরাপত্তা এবং মাইক ব্যবহারের অনুমতির জন্যও পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। ফলে সভাটি কোনও গোপন কর্মসূচি ছিল না বলেই দাবি জাসদ নেতৃত্বের। ঘটনার সময় জাসদ কার্যালয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল এবং সেখানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এমন অভিযোগ তোলে বিএনপির যুবদল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কার্যালয়ে পুলিশ ডাকা হয়। তবে জাসদ নেতৃত্বের দাবি, তাঁদের প্রতিনিধি সভায় এমন কোনও স্লোগান দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি ‘জয় বাংলা’ (Joy Bangla) মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত একটি ঐতিহাসিক স্লোগান এবং সেটি নিষিদ্ধ নয় বলেও দাবি তাঁদের।

পুলিশের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, আওয়ামী লীগের (Awami League) নেতা-কর্মীরা সেখানে জড়ো হয়েছেন কি না, তা যাচাই করতেই উপস্থিত ব্যক্তিদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, মোট ২৭৮ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে পরিচয় যাচাইয়ের পরে ২৪৯ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৯ জনের পরিচয় ও রাজনৈতিক যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হয়। জাসদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সম্মেলনের খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকও ছিলেন। দলের নেতাদের বক্তব্য, দিনের কর্মসূচি ছিল প্রকাশ্য এবং সেখানে বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিধি এসেছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেও দাবি করা হয়েছে।

অন্য দিকে যুবদলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দলের কিছু নেতা-কর্মী জাসদের কার্যালয়ে জড়ো হয়েছিলেন। পুলিশের বক্তব্যেও সেই সম্ভাব্য যোগসূত্র যাচাইয়ের কথা উঠে এসেছে। তবে জাসদ নেতৃত্ব এই অভিযোগ মানেনি। জাসদ বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ছিল। দলটির সভাপতি এবং প্রাক্তন মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বর্তমানে কারাবন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং একটি মামলায় তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।