বিধানসভা ভোটে শুধু নন্দীগ্রাম নয় একইসঙ্গে হেভিওয়েট ভবানীপুর কেন্দ্রেও জয় পেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির প্রচারে বড় হাতিয়ার হিন্দুত্ব এবং ভগবান রাম। ভবানীপুরের বিধানসভায় নিজের জয়ের নেপথ্যেও রামের কাহিনী তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শুক্রবার নেতাজি ইন্ডাোর স্টেডিয়ামে কবি কুমার বিশ্বাসের পরিবেশিত পবিত্র রাম কথা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজের বক্তব্যে বারবার সনাতনী ভাবধারার কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে তার বক্তব্যে উঠে আসে ভবানীপুর নির্বাচনে জয়ের প্রসঙ্গ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে অযোধ্যায় ৫০০ বছরের স্বপ্ন পূরণ করে রাম মন্দির উদ্বোধনের সময় একজন বিরোধিতা করে কলকাতায় মিছিল করেছিলেন। সনাতনী জনতা তাঁকে ভবানীপুরে হারিয়ে দিয়েছে। যিনি রামকে অপমান করবেন জনতা তাকেই শিক্ষা দেবে। একই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, যারা রামের বিরোধিতা করেছিল তাদের টাটা বাই বাই করে দেওয়া হয়েছে।
এরপর নিজের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী আরও নিজেকে রামের সন্তান হিসেবেও উল্লেখ করেন। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ভবানীপুরে মানুষ তাঁকে রামের সন্তান হিসেবে জয়ী করেছেন। তাঁর দাবি, রামকে কেন্দ্র করে মানুষের আবেগকে যারা অসম্মান করবেন তাদের রাজনৈতিকভাবে জবাব দিতে দেবে সাধারণ মানুষ।
এই মঞ্চ থেকে ফের একবার তৃণমূল এবং সিপিএমকে নিশানা করেন তিনি। তার বক্তব্যে উঠে আসে পূর্বতন দুই সরকারের আমলে বাংলার সাংস্কৃতিক অবক্ষয়ের কথা। তাঁর দাবি, দীর্ঘ বাম শাসন এবং তারপর তৃণমূল আমলে বাংলার সাংস্কৃতিক সম্মানহানি হয়েছে। কলকাতাকে ফের দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য।
আগামী কয়েক মাসে ধর্মীয় আবেগকে সামনে রেখে একগুচ্ছ যে কর্মসূচি নেওয়া হবে তারও আগাম ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার দুর্গা পুজো বড় আকারে করা হবে। মহালয়া দিন জমকালো অনুষ্ঠান হবে ইডেনে। পাশাপাশি শীতকাল পড়লেই নভেম্বর মাসে কলকাতা বড় আকারে হনুমান চলিশা পাঠ হবে। এমনকি ডিসেম্বর মাসে ব্রিগেডে পাঁচ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে গীতা পাঠের পরিকল্পনা কথাও জানান তিনি। আগামী বছর গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মেলা হিসেবে আয়োজন করার পরিকল্পনা কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
















