রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Bose) ও তাঁর ছেলের দুই রেস্তোরাঁয় হানা দিল খাদ্য সুরক্ষা দফতর। শুক্রবার সেখান থেকে অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় প্লাস্টিকে মোড়া অন্তত ৭০ কেজি মাংস উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কেন এইভাবে মাংস রাখা হয়েছিল তা জানতে সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁকে শো-কজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। খাদ্যসুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের দাবি, মাংস রাখার পদ্ধতি স্বাস্থ্যবিধি মেনে হয়নি। 

গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এবং শহর কলকাতার মিষ্টির দোকান ও রেস্তোরাঁগুলিতে অভিযান চালাচ্ছেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। একের পর এক নামিদামি প্রতিষ্ঠান থেকে পচা খাবার উদ্ধারের ঘটনা খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে। বাতিল হচ্ছে একের পর এক বড় বড় রেস্তোরাঁর লাইসেন্স। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই শুক্রবার লেকটাউনের গোলাঘাটা এলাকায় বেঙ্গল ধাবা এবং একটি চাইনিজ রেস্তরাঁয় যান আধিকারিকেরা।বেঙ্গল ধাবায় তল্লাশি চালানোর সময় প্লাস্টিকে মোড়া ৬০ থেকে ৭০ কেজি মাংস উদ্ধার হয় যা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ভাবে ফেলে রাখা হয়েছিল। সমস্তটাই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠান সুজিত বসু ও তাঁর ছেলে সমুদ্র বসুর বলে জানা গিয়েছে। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী এই মুহূর্তে কারাগারে রয়েছেন। তাঁর ছেলে সমুদ্র বসুর তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

একই এলাকার চাইনিজ কুইজিন রেস্তোরাঁয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে একাধিক ত্রুটি ধরা পড়ে বলে জানা গিয়েছে। এটিরও মালিক সুজিতের ছেলে। খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা দেখেন, সংরক্ষিত করে রাখা মাংসের অধিকাংশ পচে গিয়েছে। দীর্ঘদিন ফ্রিজে মজুর রাখার কারণে সেগুলির উপর ছত্রাকের প্রলেপও পড়ে গিয়েছিল! তা সত্ত্বেও সেগুলো প্লাস্টিক বন্দি।মেয়াদ ফুরনো মশলা, ভিনিগারও মিলেছে। প্রচুর সংখ্যায় আইসক্রিমও খোলাভাবে মজুত রাখা হয়েছিল। চাইনিজ কুইজিন এতটাই অপরিচ্ছন্ন যে আগামী দু'দিনের মধ্যে সাফাই কাজ সম্পূর্ণ করা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুদিন পর সেখানে গিয়ে পরিদর্শন করবেন সরকারি আধিকারিকরা। খাবারের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে রাজ্যজুড়ে যে অভিযান চলছে তার জেরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৬৫ টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। আধিকারিকরা বলছেন, মানুষ টাকা দিয়ে রেস্তরাঁয় খাবার খান। তাই খাদ্য সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। আগামী দিনেও এই অভিযান জারি থাকবে।