ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পের পর একের পর এক আফটারশকে মৃত বেড়ে ৫২। আহত প্রায় শতাধিক। তবে মৃত ও আহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার সকালে রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৭, মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ফের ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে ইন্দোনেশিয়া। শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৫টা ৫৪ মিনিটে উত্তর সুমাত্রা প্রদেশে আঘাত হয় এই ভূমিকম্প। পুরোপুরি ধসে পড়েছে অন্তত ৫৪টি ভবন। আংশিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও কয়েকশো বাড়িঘর। উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনও চলছে।
৩৪১ আফটার শক! ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকম্পে হু হু করে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা
Sponsored

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সার্ভে সংস্থা USGS-এর তথ্য অনুযায়ী, নতুন ভূমিকম্পটির উৎসস্থল ছিল উত্তর সুমাত্রার অন্যতম বড় শহর পেমাতাংসিয়ানতার থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮৩.২ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা জারি করে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া দফতর। তবে পরবর্তী তিন ঘণ্টায় সুনামির কোনও লক্ষণ দেখা না যাওয়ায় সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। শক্তিশালী কম্পনের পর পরই ৩৪১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও সেগুলির অধিকাংশের মাত্রা তুলনামূলক ভাবে কম ছিল।
প্রশান্ত মহাসাগরের 'রিং অব ফায়ার' অঞ্চলে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। প্রায় ১,৭০০ দ্বীপ নিয়ে গড়ে ওঠা এই দ্বীপরাষ্ট্রে প্রায়শই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। একাধিক টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণেই দেশটিতে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকি বেশি। ইন্দোনেশিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলির অন্যতম ছিল ২০০৪ সালের ৯.১ মাত্রার কম্পন। সেই ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ সুনামিতে ইন্দোনেশিয়াতেই প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেই স্মৃতি এখনও তাজা। তারই মধ্যে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পর পর শক্তিশালী কম্পন নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে দ্বীপরাষ্ট্রজুড়ে।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













