ভয়াবহ হড়পা বানের জেরে তছনছ হয়ে গিয়েছে নেপাল (Nepal)। প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও খোঁজ নেই প্রায় ৬০০ পড়ুয়ার। তাই রসুয়া ও নুয়াকোটের বহু পরিবার এখনও দিন কাটাচ্ছে দুশ্চিন্তায়। তবে তাঁদের সন্তানরা কোথায় রয়েছে এবং আদৌ তারা বেঁচে আছে কি না এই উত্তর অজানা। ফলে সন্তানদের ফেরার দিন গুনছেন মা-বাবারা এবং আশা রাখছেন বাচ্চারা ফিরবে।

গত ২৬ অগাষ্টের ভয়াবহ বন্যায় নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা প্রায় মৃত্যুপুরীর রূপ নিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রসুয়া ও নুয়াকোট জেলা। স্থানীয় শিক্ষা দফতর এবং স্কুলগুলির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, রসুয়ায় প্রায় ২৮০ জন এবং নুয়াকোটে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন পড়ুয়ার এখনও কোনও হদিশ নেই। যদিও এই সংখ্যা এখনও চূড়ান্ত নয় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থাও একেবারে বিপর্যস্ত থাকায় নিখোঁজ পড়ুয়াদের তথ্য যাচাই করতেও সমস্যায় পড়ছেন স্কুলের আধিকারিকরা।

বন্যার জলের সঙ্গে ভেসে গিয়েছে বহু ঘরবাড়ি এবং পাশাপাশি রাস্তা। ফলে যোগাযোগ পরিকাঠামোও ব্যাহত হয়ে পড়েছে। শুধু বাড়ি রাস্তা নয় এই বিপর্যয়ের আঁচ পড়েছে স্কুলগুলিতে। রসুয়া ও নুয়াকোট মিলিয়ে মোট ১২টি স্কুল পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। আরও বেশ কয়েকটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই মুহূর্তে নেপালে সবথেকে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এখনও অবধি বহু জায়গায় নেটওয়ার্ক ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। উদ্ধার হওয়া ছেলে মেয়েরা তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না। ফলে কেউ উদ্ধার হয়ে নিরাপদ জায়গায় রয়েছে কি না, সেই নিয়েও ধোঁয়াশায় পরিবার। এখন শুধুই অপেক্ষায় দিন গুনছেন তাঁরা। অন্যদিকে নুয়াকোটের বিদুর পুরসভায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। স্থানীয় শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর প্রায় ২৫০ শিশুর খোঁজ এখনও মেলেনি। কোথাও বাবা-মা সন্তানকে খুঁজছেন, আবার কোথাও সন্তানই খুঁজছে নিখোঁজ বাবা-মাকে।

বন্যার এক সপ্তাহ পরেও নেপালের পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ। চলছে উদ্ধারকাজ। পাশাপাশি প্রশাসনের তরফ থেকে নিখোঁজ শিশুদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত সংখ্যা জানা কঠিন। বর্তমানে, রসুয়া ও নুয়াকোটের বহু পরিবার এখনও ক্ষীণ আশা নিয়ে তাঁদের সন্তানদের বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।