হড়পা বান (Flash Flood in Nepal) বিপর্যয়ের এক সপ্তাহ পার। বুধবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী মৃত বেড়ে ১১২৭! হিমালয়ের দেশে কাদামাটির স্তুপ সরিয়ে একের পর এক পচা গলা দেহ উদ্ধার হচ্ছে। ধাদিং, রসুয়া, নুয়াকোট, চিতওয়ান জুড়ে শুধুই প্রকৃতির ধ্বংসলীলা। ইতিমধ্যে ভারত থেকে পঞ্চম বারের জন্য ত্রাণ পৌঁছলো নেপালে। চিন এবং নেপাল মিলিয়ে নিখোঁজ পাঁচ হাজারের বেশি!
নেপাল জুড়ে এখনও মহাপ্রলয়ের মৃত্যু মিছিল।ধ্বংসস্তূপে পরিণত দিব্যস্থান বাজার। প্রবল জলস্রোত ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে সবকিছু। কোথাও দোকানের অস্তিত্ব নেই, কোথাও শুধুই ধ্বংসের চিহ্ন।বন্যার জল নেমে গেলেও দুর্ভোগ এখনও কাটেনি। যাঁদের জীবন বেঁচেছে তাদের নতুন করে জীবিকার লড়াই শুরু। স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা করলেও বারবার এক সপ্তাহ আগের আজকের দিনের ভয়াবহ স্মৃতি মনে পড়ে যাচ্ছে নেপালের বাসিন্দাদের। মঙ্গলবার বহু নেপালি পরিবার নিখোঁজ আত্মীয়ের সন্ধান পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে ‘প্রতীকী দাহ’ করেছেন। জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ।
এনডিআরআরএমএ বলছে, এখনও প্রায় চার হাজার জনের সন্ধান মেলেনি। বিপর্যয়ের পর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১২ হাজার জনকে। তবে নতুন করে কোনও ভারতীয় উদ্ধার হয়েছেন বলে খবর নেই। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের নিখোঁজ ৩৭ নাগরিকের খোঁজ মেলেনি। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালের মতে, উষ্ণায়নের কারণে নেপালে বিপর্যয়ের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। সতর্ক করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জও।কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, নেপালে বিপর্যয়ে মৃতদের দেহ কী ভাবে শনাক্ত করতে হবে এবং তা কী ভাবে দেশে ফেরাতে হবে। সেক্ষেত্রে মূলত নটি ধাপ মেনে চলতে হবে। ১)দেহের নথিভুক্তকরণ,২) ছবি তুলে বিশদে তথ্য দাখিল, ৩) ময়নাতদন্ত, ৪) মৃত্যুর কারণ নির্ণয়, ৫) শনাক্তকরণের পক্ষে নথি, ৬) ডিএনএ পরীক্ষা, ৭) ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ, ৮)দূতাবাসের সহযোগিতায় লেখাপড়া, ৯)মেমো-সহ দেহ হস্তান্তর। ত্রিশূলি উপত্যকায় আড়াই হাজারেরও বেশি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টানেলে প্রাণের স্পন্দন খোঁজার কাজ চলছে।
















