যত সময় গড়াচ্ছে ততই নেপালে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। রবিবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী ৭৩৪ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ অন্তত ২৫০০! পরিস্থিতি এমনই যে মর্গে তিল ধারণের জায়গা নেই। এই চাপ সামলাতে এবার গণ সৎকারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। সেক্ষেত্রে শতাধিক মৃতদেহের জিওট্যাগিং করার ভাবনা প্রশাসনের। প্রতিটি মৃতদেহের ছবি তোলা, ভিডিওগ্রাফি করা এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজও চলছে।
গত বুধবার নেপালের রসুয়া জেলায় আচমকা হড়পা বানের জেরে ভেসে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। ভেঙেছে ঘরবাড়ি, জলের তোড়ে তলিয়ে গেছে সেতু। কাদাজলে ডুবেছে জাতীয় সড়ক। এর মধ্যে নতুন করে বৃষ্টি শুরু হয় ভোতেকোশি নদীতে জলস্তর বাড়ছে। সতর্ক করেছে প্রশাসন। এরই মাঝে বেওয়ারিশ মৃতদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে গণকবর দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে নিখোঁজ প্রিয়জনদের খুঁজে পেতে যাতে আত্মীয়দের বা পরিবারের কোনও সমস্যা না হয় সেই কারণে এই দেহগুলির সঙ্গে রেফারেন্স নম্বর বা ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় প্রত্যেক কবরের মাঝে ৪০ সেন্টিমিটার ফাঁকা রাখা হচ্ছে যাতে পরবর্তীতে দেহ সনাক্ত করার প্রয়োজন হলে সহজেই যাতে নির্দিষ্ট দেহ খুঁড়ে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া যায়। নেপাল পুলিশ সৎকারের ছবি ও ভিডিও রেকর্ডিং সুরক্ষিত রাখবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বলেন্দ্রর সরকারি তরফে জানানো হয়েছে প্রতি কবরের জিওট্যাগিং সংক্রান্ত ডিজিটাল রেকর্ড সংগ্রহ করে রাখা হবে। কবরের সুনিদিষ্ট স্থানে ফলক ও সাইনবোর্ড বসানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহগুলির তথ্য নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। প্রশাসন মনে করছে নিখোঁজদের শেষ ঠিকানা বাঁচিয়ে রাখতে হলে প্রশাসনের এই উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ।
জলরোষে বিধ্বস্ত নেপাল প্রথমে উদ্ধারকাজে বিদেশি সাহায্য গ্রহণ না করলেও পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রে উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণ পাঠিয়েছে ভারত সরকার। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হিমবাহ ভেঙে পাহাড়ের কোলে তৈরি হওয়া অস্থায়ী হ্রদ যেভাবে ভরে উঠেছে, যেকোনও মুহূর্তে সেখানে জল উপচে প্রবল স্রোত নিয়ে নিচের দিকে ধেয়ে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে ফের প্লাবনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতিকে নজর রাখার নির্দেশের পাশাপাশি প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে। এদিন সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে বারবার ব্যাহত হয়েছে উদ্ধারকাজও।
















