নেপালে সাম্প্রতিক বিধ্বংসী হড়পা বানের জেরে কার্যত মৃত্যুমিছিল শুরু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা হাজার ছুঁইছুঁই, এখনও নিখোঁজ বহু মানুষ। হিমালয়ের কোলে প্রকৃতির এই বেনজির তাণ্ডবের নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটতে শুরু করেছে নতুন উপগ্রহ চিত্র হাতে পাওয়ার পর।

গত বুধবার নেপালের ভোটেকোশী নদীতে আচমকা নেমে আসা হড়পা বানের ঠিক পরের পরিস্থিতি মেঘে ঢাকা আকাশের কারণে উপগ্রহ চিত্রে স্পষ্ট ধরা পড়েনি। তবে পরবর্তী কয়েক দিনে আকাশ পরিষ্কার হতেই ওই অঞ্চলের স্পষ্ট চিত্র বিজ্ঞানীদের হাতে আসে। ক্রিস্টেন কুক এবং ড্যান শুগারের মতো আন্তর্জাতিক ভূবিজ্ঞানীরা সেই ছবি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, বিপর্যয় কেবল হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে ঘটেনি। প্রথমে পাহাড়ের কঠিন শিলাস্তরে বড়সড় ধস নামে। সেই বিশালাকার পাথর ও শিলার চাঁই পাহাড়ের ঢাল বেয়ে প্রচণ্ড গতিতে নেমে এসে হিমবাহের উপর আছড়ে পড়ে এবং তাতে বড় আকারের ফাটল ধরায়। এর জেরে হিমবাহ থেকে বিপুল পরিমাণ বরফের চাঁই ও খোয়া আলগা হয়ে নিচে নামতে শুরু করে। তীব্র ঘর্ষণে এবং নিচের দিকে নামার সঙ্গে সঙ্গে সেই বরফ দ্রুত গলতে থাকে। নিম্ন অববাহিকায় ওই বরফগলা জলের সঙ্গে মিশে যায় বিপুল পরিমাণ পাথর, কাদা ও মাটি। তৈরি হয় এক বিধ্বংসী ধ্বংসস্রোত। সেই জল ও পাথরের মিশ্রণ প্রবল শক্তিতে ভাসিয়ে নিয়ে যায় একের পর এক সেতু ও বসতি। নিমেষের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় বিস্তীর্ণ জনপদ। উপগ্রহ চিত্রে স্পষ্ট, প্রকৃতির এই আকস্মিক শিলাধস ও হিমবাহ ভাঙার যৌথ প্রক্রিয়াই জনপদগুলিকে মুহূর্তে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।