রাশিয়ায় (Russia) সংসদীয় নির্বাচনের শেষ দিনেই মস্কো (Moscow) ও সংলগ্ন এলাকায় বড়সড় ড্রোন হামলার (Drone Attack) অভিযোগ উঠল ইউক্রেনের (Ukraine) বিরুদ্ধে। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, শনিবার রাত থেকে রবিবার পর্যন্ত মস্কো-সহ বিভিন্ন এলাকায় ১,৬০০-র বেশি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এই হামলায় অন্তত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মস্কোর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারও।
আরও পড়ুন: ইমরানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের ডাক, ঘোষণা হতেই গ্রেফতার বোন!
রাশিয়ার তিন দিনব্যাপী সংসদীয় নির্বাচনের তৃতীয় তথা শেষ দিন ছিল রবিবার। এই সময়েই রাজধানী ও মস্কো অঞ্চলে একের পর এক ড্রোন হামলার খবর সামনে আসে। মস্কোর মেয়র সোবিয়ানিন ঘটনাটিকে রাজধানীর উপর এ যাবৎকালের অন্যতম বড় ড্রোন হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর লক্ষ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। তবে ভোটগ্রহণে হামলার প্রভাব পড়েনি বলেও দাবি করেছেন তিনি।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ (Andrey Yuryevich Vorobyov) জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪৪ বছরের এক মহিলা এবং এক প্রবীণ ব্যক্তি রয়েছেন। একটি ২১ তলা আবাসনে ড্রোন আছড়ে পড়ার পর আগুন ধরে যায়। নিরাপত্তার কারণে সেখান থেকে প্রায় ৪০০ জনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। হামলায় প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন বলেও আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
হামলার প্রভাব পড়েছে মস্কোর তেল পরিশোধনাগারেও। সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, ড্রোনের আঘাতে ওই পরিশোধনাগারের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর জরুরি পরিষেবার কর্মীরা সেখানে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। রুশ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর পাশাপাশি মস্কো অঞ্চলের একাধিক আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, রবিবার রাতে রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকা, ক্রিমিয়া এবং কৃষ্ণসাগরের উপর মোট ১,১১০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে, মস্কোর মেয়র ১,৬০০-র বেশি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছেন। দুই সংখ্যার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এবং এগুলি রুশ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব হিসাব। এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কো ও আশপাশের অঞ্চলে হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। তাঁর দাবি, রাশিয়ার তেল ও যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করেই দূরপাল্লার হামলা চালানো হয়েছে। তবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ ইউক্রেন অস্বীকার করে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরুর পর এটাই রাশিয়ার প্রথম সংসদীয় নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনের সময়েই ড্রোন হামলা চালাল কিয়ভ।
















