বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় (Dhaka, the capital of Bangladesh) পরপর বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে প্রশাসন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (Dhaka Metropolitan Police) (DMP) অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২৭ জনকে গ্রেফতার (Arrest) করা হয়েছে এবং ৫৫টি মামলা দায়ের হয়েছে বলে খবর। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ২০০-র বেশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। ঢাকার চারটি প্রধান প্রবেশপথেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়, ফ্লাইওভার ও প্রবেশপথে চলছে তল্লাশি ও নজরদারি। পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। 

রবিবার ঢাকার হাইকোর্টের (Dhaka High Court) প্রধান গেটের সামনের রাস্তায় একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের ডেপুটি কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম (Sheikh Jahidul Islam, Deputy Commissioner of the Ramna Division) ঘটনার কথা নিশ্চিত করেছেন। এর আগেও জাত্রাবাড়ী, কমলাপুর-সহ একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। জাত্রাবাড়ীর ঘটনায় এক পথচারী আহত হন। জাত্রাবাড়ী থানার সামনে বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তে নেমে চারজনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। পুলিশের দাবি, তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালবাগ এলাকা থেকে চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। এদিকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পরই রাজধানীজুড়ে তল্লাশি, টহল এবং নজরদারি বাড়ানো হয়। ঘটনাস্থলের CCTV ফুটেজ সংগ্রহ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। 

(ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) DMP-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫২৭ জনের মধ্যে মিরপুরে ১৪৬, তেজগাঁওয়ে ৭৯, মতিঝিলে ৬৩, ওয়ারিতে ৫৭, রমনায় ৫২, উত্তরা ৪৫, লালবাগে ৪৩ এবং গুলশানে ৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অভিযানে বিস্ফোরক তৈরির সঙ্গে ব্যবহার করা হতে পারে এমন বিভিন্ন সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিরোধী জোটের ঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে নজরদারি শুরু হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Prime Minister Tarique Rahman) রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের (New York) উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।