নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের (Nepal Harappa Flood) বিভীষিকার মধ্যে সামনে এল দুই ভিন্ন লড়াইয়ের গল্প। একদিকে প্রধানশিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদির (Headmaster Rajendra Dawadi) দ্রুত সিদ্ধান্তে প্রাণে বাঁচল ত্রিভুবন ত্রিশূলী সেকেন্ডারি স্কুলের (Tribhuvan Trishuli Secondary School) ১৬৪৩ জন পড়ুয়া, অন্যদিকে ধ্বংসস্তূপের নীচে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হলেন ৯৭ বছরের গুনা মায়া বোহারা। হড়পা বানে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় যে ভয়াবহ ধ্বংসলীলা চালিয়েছে, তার মধ্যেও এই দুই ঘটনা হয়ে উঠেছে মানবিক লড়াই ও বেঁচে ফেরার ব্যতিক্রমী ছবি।
সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ পরিচিত এক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপদের খবর পান রাজেন্দ্র। নদীর প্রবল স্রোত একের পর এক এলাকা গ্রাস করে স্কুলের দিকেও এগিয়ে আসছে বলে তাঁকে সতর্ক করা হয়। নদী থেকে প্রায় ৬০ মিটার উঁচুতে থাকা কংক্রিটের স্কুলভবনটি প্রথমে নিরাপদ বলেই মনে করেছিলেন তিনি। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই এক অভিভাবকের সতর্কবার্তায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়। আর সময় নষ্ট না করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে স্কুল খালি করার সিদ্ধান্ত নেন প্রধানশিক্ষক। বাসচালকদেরও সতর্ক করা হয় এবং সমস্ত পড়ুয়াদের আরও উঁচু জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই প্রবল জল ও কাদার স্রোতে স্কুলভবনটি কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তবে সবাইকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। স্কুলের এক শিক্ষক এবং এক সাফাইকর্মী এই বিপর্যয়ের কবলে পড়ে নিখোঁজ হয়ে যান। এলাকার মানুষ রাজেন্দ্রকে এখন ‘ত্রিশূলীর হিরো’ বলেই অভিহিত করছেন।
বিপর্যস্ত নেপালের আর এক প্রান্তে ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েছিলেন ৯৭ বছরের গুনা মায়া বোহারা (Guna Maya Bohara)। তিনি যে পরিচর্যা কেন্দ্রে ছিলেন, বন্যার জেরে সেটি ভেঙে পড়ার পর তাঁর সন্ধান মেলে ধ্বংসাবশেষের মধ্যে। পুলিশ ও নেপাল সেনাবাহিনীর দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর প্রায় চার ঘণ্টা চেষ্টায় তাঁকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা হয়। পরে একটি এক্সকাভেটরের সাহায্যে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয় তাঁকে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুনা মায়া ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে চিকিৎসকদের দাবি।
বুধবারের সেই কয়েক ঘণ্টায় নেপালের বন্যাবিধ্বস্ত দুই প্রান্তে লেখা হল দুই ভিন্ন ঘটনার কথা। ত্রিশূলী উপত্যকায় বিপদ বুঝে সময়মতো স্কুল খালি করার সিদ্ধান্তে রক্ষা পেল ১৬৪৩টি শিশু, আর অন্য প্রান্তে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার করা হল ৯৭ বছরের এক বৃদ্ধাকে। প্রকৃতির ভয়াল তাণ্ডবে চারদিকে যখন মৃত্যুর খবর আর ধ্বংসের ছবি, তখন এই দুই উদ্ধারকাহিনি নেপালের বিপর্যয়ের মধ্যেও বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
















