ভয়াবহ হড়পা বান ও বন্যায় কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা। মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ। এখনও চলছে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই আবহে ভারত-সহ তিন দেশের কাছ থেকে "জলবায়ুগত ক্ষতিপূরণ" দাবি করে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল। এই পরিস্থিতির মাঝেই এবার ভারত ও চিনকে ধন্যবাদ দিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। নেপালের সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারত ও চিনের সাহায্যের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তাঁর বক্তব্য, বিপর্যয়ের পর প্রথম দিন থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশ কারিগরি বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণ এবং দুর্গত এলাকায় পৌঁছনোর সম্ভাবনা যাচাইয়ে সাহায্য করেছে। আকাশপথে জরিপ-সহ বিভিন্ন কাজও করা হয়েছে। 

বালেন্দ্র বলেন, পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক। বিপর্যস্ত এলাকাগুলিতে কাদা ও পলির স্তর এতটাই বেশি যে শুধু উদ্ধারযন্ত্র চালানোই কঠিন হয়ে পড়েনি, সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দাঁড়ানোর মতো জায়গাও ছিল না। সেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে নেপাল প্রশাসন। ২৬ অগস্ট হিমালয়-সংলগ্ন এলাকায় বরফ ও পাথর ধসের পর ভয়াবহ জল ও পলির স্রোত নেমে আসে। ভাটির দিকে সেই স্রোত বয়ে নিয়ে যায় বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ। এর জেরে ঘরবাড়ি, রাস্তা, সেতু, যানবাহন এবং বিভিন্ন পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিও বিপর্যস্ত হয়েছে।এদিকে এই বিপর্যয়কে কেন্দ্র করেই আন্তর্জাতিক মহলে নতুন দাবি তুলেছে নেপাল। দেশের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য নেপালের দায় অত্যন্ত কম হলেও তার ভয়াবহ প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে দেশটি। তাঁর দাবি, হিমবাহ গলে যাওয়া, পাহাড়ি এলাকায় চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের কারণে নেপালের মতো দেশগুলিকে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খানাল বলেন, নেপাল তার কূটনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন আনছে। এতদিন আন্তর্জাতিক সহায়তার উপর জোর দেওয়া হলেও এবার ‘সহায়তা’র পাশাপাশি ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার’ ও ‘ক্ষতিপূরণ’-এর দাবি সামনে আনা হবে। তাঁর বক্তব্য, এটি শুধুমাত্র দান বা সাহায্যের বিষয় নয়, বরং বড় মাত্রায় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশগুলির নৈতিক ও আইনি দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। খানালের বক্তব্যে চিন, আমেরিকা ও ভারতের নাম উঠে এসেছে। তাঁর যুক্তি, বিশ্বের বড় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশগুলির ঐতিহাসিক দায় রয়েছে।