কোথাও ভেসে গেছে ঝুলন্ত সেতু, কোথাও ভেঙেছে ঘরবাড়ি । প্রকৃতির রোষে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত (Nepal Disaster)। হাসপাতালের সামনে স্বজনহারাদের হাহাকার। একদিকে কাদামাটির মাঝেই যখন প্রাণের খোঁজ চলছে তখন মর্গের সামনে বাড়ছে ভিড়। ধাদিং- চিতওয়ান জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কার্যত ধ্বংসস্তূপের চেহারা নিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী ৯৫০ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজ প্রায় সাড়ে চার হাজারের কাছাকাছি। জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গে অন্তত ৫০০ জনের আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে!
নেপালের বিপর্যয়ের পর অতিক্রান্ত প্রায় সাত দিন। সোমবার রাত পর্যন্ত ১৫৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা গেছে। পশ্চিমবঙ্গের নিখোঁজ ৩৭ জনের কোন খবর নেই। মঙ্গলবার সকালেও জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। হিমবাহ ধসে পড়ার দুশ্চিন্তার মাঝেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নেপালের বর্ষা। সোমবার রাতভর বৃষ্টি হয়েছে। আজ রোদের দেখা মিলতেই দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে।ধসে পড়া পাথর, গাছ সরাতে অবিরাম কাজ করে চলেছেন পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা। পাহাড়ি রাস্তা আটকে গেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে তাই রাস্তার নানা জায়গায় পে-লোডার, যন্ত্রপাতি সহ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনও মুহূর্তে ফের মুষলধারায় বৃষ্টি শুরু হতে পারে।
গত ২৬ অগাস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসে বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ নিচে নেমে আসে। ভোতেকোশি নদীর জলরোষ উত্তর নেপালের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় শহর ও গ্রামগুলিকে নিশ্চিহ্ন করে দেয় ৷এখনও পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে ৷ ক্ষতিগ্রস্ত ৮ জেলা থেকে নতুন করে মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে আজও। তবে দুর্যোগ এখনই থামছে না। একনাগাড়ে বৃষ্টি হয়ে চলায় নদীর জল বাড়ছে এবং রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে আটকে পড়া মানুষের কাছে কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলগুলিকে রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছে।
















