প্রকৃতির রোষানলে নেপাল। কয়েক দিন আগেই হড়পা বানে বিধ্বস্ত হিমালয়ের কোলের ছোট্ট দেশ, বিপর্যয়ের ক্ষত এখনও দগদগে। ৯ দিন আগে ঘটে যাওয়া প্রলয়ে লণ্ডভণ্ড নেপাল। প্রকৃতির রোষানলের মধ্যেই অবিশ্বাস্য ঘটনা।
ভয়াবহ হড়পা বানের ৯ দিন পরে নেপালের রাসুয়া জেলার ত্রিশুলী-৩এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হলো দুই ব্যক্তিকে। টানেলে আরও মানুষের গলার স্বর শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।
কথায় আছে রাখে হরি মারে কে। কঠিন পরিস্থিতিতে এতেই কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে।নেপালের নয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ জন কর্মীর এখনও খোঁজ মিলছিল না। নেপালের National Disaster Risk Reduction and Management Authority জানিয়েছিল, হড়পা বানের সময় বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গের মধ্যে ওই কর্মীরা কাজ করছিলেন।
কিন্ত ৯ দিন পর অবিশ্বাস্যভাবে ২ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হল। এতেই আরও অনেককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর আগেই সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে একাধিক মানুষের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন নেপালের এক সাংসদ।
শুক্রবার সকালে সুড়ঙ্গ থেকে দু’জনকে বার করা হয়েছে। নেপালের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির নেতা রাম নেউপানে ফেসবুকে সফল উদ্ধার অভিযানের কথা জানিয়েছেন। উদ্ধার করা হয়েছে সঞ্জয় শাহ এবং কবীর মহারাজনকে। দু জনের পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে নেপাল সেনা ও প্রশাসনকে।
পারে।
নেপাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ভিতরে বড় পাইপ ঢুকিয়ে শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে নেপালি সেনা। যদিও রাতে একটানা বৃষ্টিপাত এবং নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়েছে। উল্লেখ্য, সব মিলিয়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ জন কর্মী নিখোঁজ।
রাসুয়ার লাংটাং খোলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অবশ্য ত্রিশূলীর মতো মিরাকেল ঘটেনি। সেখানে সুড়ঙ্গে ১৫০ মিটার এগিয়ে সেনাবাহিনী দু’জন শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করেছে। ভিতরে আরও শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা। তাদের খোঁজে তল্লাসি চালাচ্ছে সেনা।
কঠিন সময়ে নেপালের পাশে দাড়িয়ে উদ্ধার কাজে সামিল হওয়ার আবেদন জানিয়েছে একাধিক দেশ। ভারতের পক্ষ থেকে ত্রাণ বোঝাই বিমান ফের পাঠানো হয়েছে নেপালে। বিভিন্ন সংস্থা তো বটেই, ব্যক্তিবিশেষও সাহায্য পাঠাচ্ছেন নেপালে। ত্রাণের পাশাপাশি আর্থিক সাহায্যও আসছে একাধিক দেশ থেকে। ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে রাষ্ট্র সংঘে যাচ্ছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র।
















