বিশ্বের মানচিত্র (World Map) খুললেই পৃথিবীকে আমরা যে ভাবে দেখি, বাস্তবে ছবিটা কিন্তু তেমন নয়। মানচিত্রে ইউরোপ (Europe), উত্তর আমেরিকা (North America) বা গ্রিনল্যান্ডকে (Greenland) যতটা বড় মনে হয়, প্রকৃত আয়তন তার সঙ্গে সব সময় মেলে না। পৃথিবী গোল হওয়ায় সেটিকে সমতল কাগজে দেখাতে গিয়ে এই সমস্যা তৈরি হয়। এবার সেই প্রায় সাড়ে চারশো বছরের পুরনো মানচিত্রে বদল আনার উদ্যোগ নিল রাষ্ট্রসংঘ (United Nations)। সাধারণ পরিষদে ‘ইকুয়াল আর্থ’ (Equal Earth) নামে নতুন একটি মানচিত্র ব্যবহারের পক্ষে প্রস্তাব পাশ হয়েছে।

এই বদলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন। প্রচলিত মার্কেটর মানচিত্রে আফ্রিকাকে তুলনায় অনেক ছোট দেখায়। অথচ বাস্তবে গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে আফ্রিকা প্রায় ১৪ গুণ বড়। নতুন মানচিত্রে এই ধরনের ভুল ধারণা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশকে তাদের প্রকৃত আয়তনের কাছাকাছি অনুপাতে দেখানোই এর মূল লক্ষ্য। আয়তনের হিসাবে এশিয়া (Asia) বিশ্বের সবচেয়ে বড় মহাদেশ। আর সবচেয়ে ছোট ওশিয়ানিয়া (Oceania)।

এই উদ্যোগের পিছনে রয়েছে আফ্রিকার দেশ টোগো। তাদের বক্তব্য, মানচিত্র শুধু রাস্তা বা জায়গা চেনার জন্য নয়, পৃথিবী সম্পর্কে মানুষের ধারণা তৈরিতেও তার বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই মানচিত্রে মহাদেশগুলির প্রকৃত আকার যতটা সম্ভব ঠিক ভাবে তুলে ধরা দরকার। ১৫৬৯ সালে জেরার্ডাস মার্কেটর যে মানচিত্র তৈরি করেছিলেন, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল সমুদ্রপথে নাবিকদের চলাচল সহজ করা। সেই সময়ের প্রয়োজন মেটাতে সেটি কার্যকর হলেও পৃথিবীর বিভিন্ন অংশের প্রকৃত আয়তন বোঝানোর ক্ষেত্রে তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

রাষ্ট্রসংঘের ভোটে অবশ্য আমেরিকা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। ১৬৫টি দেশের ভোটাভুটিতে ১৬৪টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। বিপক্ষে ছিল শুধু আমেরিকা। এবং ছটি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। ওয়াশিংটনের বক্তব্য, কয়েকশো বছর আগের মানচিত্র নিয়ে আলোচনা করার বদলে রাষ্ট্রসংঘের বর্তমান বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলিতে বেশি নজর দেওয়া উচিত। তবে প্রস্তাব পাশ হলেও ‘ইকুয়াল আর্থ’ ব্যবহার এখনই বাধ্যতামূলক হচ্ছে না। ফলে পুরনো মানচিত্রের ব্যবহার চলবে, পাশাপাশি নতুন মানচিত্রকেও আরও বেশি করে সামনে আনার সুযোগ তৈরি হল।