আশা শেষ, নেপালের ত্রিশূলী ৩-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে সুড়ঙ্গে আর কোনও মানুষই বেচে নেই। সুড়ঙ্গের অভিযান সমাপ্ত করে নিশ্চিত করল নেপালের সেনা। ভয়াবহ হড়পা বানের ৯ দিন পরে নেপালের রাসুয়া জেলার ত্রিশুলী-৩এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় দুই ব্যক্তিকে। সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে আরও কণ্ঠস্বর ভেসে আসছে বলে দাবি করা হয়েছিল। এতেই আশা বাড়ছিল।
শুক্রবার সারাদিন সুড়ঙ্গের ভিতরে অভিযান চালায় বির্পযয় মোকাবিলা বাহিনী ও নেপালের সেনা। উদ্ধারকারী দলের সদস্যেরা সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত গিয়ে খুঁজে দেখে এসেছেন, আর কেউ সেখানে নেই।বানের জলের চাপে ওই সুড়ঙ্গের উপরের স্ল্যাবও ধসে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। শুক্রবার উদ্ধার হওয়া সঞ্জয় এবং কবীরকে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযানকারী দলের প্রধান অম্বর মাহাতো সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে বলেন, ‘‘গোটা প্রকল্পটির প্রায় সব অংশ কাদা আর মাটিতে চাপা পড়ে গিয়েছে। কোনও কোনও অংশ পাথরে ভরে রয়েছে। আমরা সুড়ঙ্গের ভিতর হামাগুড়ি দিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট এগিয়েছি। যেখানেই খুঁজেছি, শুধু কাদা আর মাটি পেয়েছি।’’
নেপালের নয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ জন কর্মীর এখনও খোঁজ মিলছিল না। নেপালের National Disaster Risk Reduction and Management Authority জানিয়েছিল, হড়পা বানের সময় বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গের মধ্যে ওই কর্মীরা কাজ করছিলেন।
কিন্ত ৯ দিন পর অবিশ্বাস্যভাবে ২ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হল। এতেই আরও অনেককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর আগেই সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে একাধিক মানুষের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন নেপালের এক সাংসদ।
রাসুয়ার লাংটাং খোলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অবশ্য ত্রিশূলীর মতো কাউকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা যায়নি। সেখানে সুড়ঙ্গে ১৫০ মিটার এগিয়ে সেনাবাহিনী দু’জন শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করেছে। ভিতরে আরও শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা।
এদিকে, শুক্রবার রাতে ৫ বছরের শিশু-সহ আরও ৩ ভারতীয়কে উদ্ধার করল সেনা। ত্রিশূলির সুড়ঙ্গেও প্রাণের খোঁজ মিলেছে বলে খবর। উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত নেপালে ১২৫৯ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৫০৫৩ জন এখনও নিখোঁজ। বিপর্যস্ত এলাকা থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার ৯৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আনুমানিক ২৮০ জন শিশু নিখোঁজ, নুয়াকোটে এই সংখ্যাটা সাড়ে তিনশোর বেশি।














