দুর্গাপুজোয় (Durga Puja) শহর ও শহরতলির মানুষের যাতায়াতের চাপ সামলাতে বড়সড় প্রস্তুতিরন কথা জানিয়ে দিয়েছে পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনের (Sealdah Division of Eastern Railway)। পুজোর দিনগুলিতে কলকাতামুখী যাত্রীদের সুবিধার পাশাপাশি রাতের যাতায়াত ও নিরাপত্তার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা (DRM Rajiv Saxena) জানিয়েছেন, গতবারের তুলনায় এবার বিশেষ ট্রেনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। সব মিলিয়ে পুজোর মরসুমে ৫১টি বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি রাতের ইএমইউ এবং ১৩টি ট্রেন সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ শাখায় চলবে।

আরও পড়ুন: বন্ধের পথে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন! শিক্ষক নিয়োগে আসছে নয়া নিয়ম

পাশাপাশি দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্যও বাড়ছে পরিষেবা। গত বছরের তুলনায় এবার দ্বিগুণ করে মোট ৫০টি বিশেষ দূরপাল্লার ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাতের যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। রাত ২টো থেকে লোকাল ট্রেনগুলি ফ্ল্যাগ ও হল্ট স্টেশন-সহ সমস্ত স্টেশনে থামবে। পাশাপাশি, ১০ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত গ্যালপিং ইএমইউগুলিও নির্দিষ্ট স্টেশনগুলিতে অতিরিক্ত স্টপেজ দেবে। ফলে পুজোর রাতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কলকাতায় আসা এবং বাড়ি ফেরার ক্ষেত্রে যাত্রীদের সুবিধা বাড়বে।

শুধু পুজো নয় তার আগে পুজোর কেনাকাটাকে কেন্দ্র করেও মারাত্বক ভিড় হয় কলকাতাতে। তা সামলাতেও বিভিন্ন রুটে বিশেষ পরিষেবা রাখা হয়েছে। ১০ থেকে ১৫ অক্টোবর শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় চারটি প্রাক-পুজো স্পেশাল ট্রেন চলবে। রানাঘাট স্টেশনে টিকিট কাটার দীর্ঘ অপেক্ষা কমাতে অস্থায়ী ও অতিরিক্ত বুকিং কাউন্টার খোলা হয়েছে। ফুট ওভারব্রিজের কাছেও পৃথক কাউন্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবির কথা বিবেচনা করে শান্তিপুর ও কৃষ্ণনগর সিটি জংশনের মধ্যে দৈনিক ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে দুই জোড়া করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইংরেজি পরিচয়েও এবার ‘পশ্চিমবঙ্গ’! রাজ্যের নামে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

পুজোর ভিড়ের সময়ে নিরাপত্তা ও যাত্রী নিয়ন্ত্রণে শিয়ালদহের পাশাপাশি দমদম, বিধাননগর রোড, কলকাতা, নৈহাটি-সহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। ২৪ ঘণ্টার একটি কন্ট্রোল বা ওয়ার রুম থেকে সিসিটিভির মাধ্যমে স্টেশনগুলির পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে। কোথাও ভিড় বাড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। দমদম এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে রাস্তার পরিকাঠামোগত উন্নতিও করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: স্বেচ্ছাবসরের কথা ঘোষণা করে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুকে! 'কুমীরের কান্নায়' ভাসালেন হুমায়ুন

এছাড়াও জরুরি পরিস্থিতিতে পরিষেবা সচল রাখতে অতিরিক্ত ট্রেনের রেক, রিজার্ভ লোকো পাইলট ও অন্যান্য ক্রু, মেডিক্যাল বুথ এবং মোবাইল রক্ষণাবেক্ষণকারী দল প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। পুজোর দিনগুলিতে শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরের সামনে যানজট এড়াতে কোনও গাড়ি পার্কিংয়ের অনুমতি দেওয়া হবে না। রেলের দাবি, উৎসবের কয়েক দিন যাত্রীসংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেলেও যাতে পরিষেবা, নিরাপত্তা এবং যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যে কোনও ঘাটতি না থাকে, সেই লক্ষ্যেই একাধিক স্তরে এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।