আদালত জামিন মঞ্জুর করেছিল। জামিনের সমস্ত শর্তও পূরণ করেছিলেন অভিযুক্ত। তা সত্ত্বেও প্রায় দু’মাস তাঁকে কারাগারে থাকতে হয়েছিল। ঘটনাকে বেআইনি আটক হিসেবে চিহ্নিত করে রাজ্য সরকারকে কড়া ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ৫ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা, রেপো রেট বাড়াল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক
জয়কৃষ্ণ নাগ ওরফে রোহিতকে ২০১৮ সালের ৬ অগাস্ট থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত হেফাজতে রাখা হয়েছিল। কুমারগ্রাম থানায় (Kumargram Police Station) দায়ের হওয়া তিনটি মামলাতেই তিনি জামিন পেয়েছিলেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ের আটক সম্পূর্ণ বেআইনি ছিল বলে স্পষ্ট জানিয়েছে বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি আর্য দত্তের বেঞ্চ।
রাজ্যের তরফে আদালতে দাবি করা হয়, শান্তিভঙ্গের অভিযোগ সংক্রান্ত একটি এমআর মামলার কারণে জয়কৃষ্ণকে হেফাজতে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই ব্যাখ্যা খারিজ করে দেয় আদালত। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, কোনও ব্যক্তি একবার বৈধ ভাবে জামিন পেয়ে গেলে অন্য কোনও মামলার অজুহাতে তাঁকে জেলে আটকে রাখা যায় না। এমন ঘটনা ব্যক্তিস্বাধীনতার উপর সরাসরি হস্তক্ষেপ বলেও কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছে বেঞ্চ।
আরও পড়ুন: এন্টালিতে ক্যাব-রহস্য! গাড়িতেই চালকের হাত- পা বাঁধা দেহ উদ্ধার
বেআইনি ভাবে আটকে থাকার পাশাপাশি এই ঘটনায় জয়কৃষ্ণের কর্মজীবনেও ক্ষতি হয়েছে এবং তাঁকে মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। সমস্ত বিষয় বিবেচনা করেই ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ধারণ করেছে আদালত। রাজ্যকে ৫ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশের পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরে এমন গাফিলতির পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও সতর্ক করেছে হাই কোর্ট।















