ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সংঘাত এবার গড়াল আইনি লড়াইয়ের পথে। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল এবং মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তের বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও মানহানির জোড়া মামলা দায়ের করার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে সাংসদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যসচিবও।

বিতর্কের সূত্রপাত মহুয়া মৈত্রের একটি সমাজমাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে জাতীয় স্তরে টানাপড়েনের আবহে এক্স মাধ্যমে সুব্রত গুপ্ত ও মনোজ আগরওয়ালের ছবি পোস্ট করেন তৃণমূল সাংসদ। সেখানে তিনি দাবি করেন, এই দুই আধিকারিকই বাংলায় এসআইআরের সবচেয়ে বড় কারিগর এবং তাঁরা যাবতীয় বেআইনি কাজ করেছেন। পাশাপাশি অভিযুক্তরা কেউ পার পাবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন মহুয়া।

সাংসদের এই বার্তার পরেই কড়া অবস্থান নেন বর্তমান মুখ্যসচিব তথা রাজ্যের তৎকালীন সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল। অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি স্পষ্ট জানান, কোনও প্রমাণ ছাড়া এভাবে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা যায় না।মুখ্যসচিব জানান, তিনি অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেলের কাছে আইনি পরামর্শ চেয়েছেন এবং খুব দ্রুত মানহানির মামলা করতে চলেছেন। সরকারি আধিকারিক হিসেবে লক্ষ্মণরেখা মেনেই তিনি আইনের পথে হাঁটবেন।

নন্দীগ্রামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার উদ্দেশ্যেই এমন মন্তব্য করা হয়েছে। তাই মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় ফৌজদারি এবং দেওয়ানি মানহানির মামলা দায়ের করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়ার অ্যাডজুডিকেশনে এই দুই আধিকারিকের কোনও ভূমিকাই ছিল না। বিষয়টি সরাসরি সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করছে এবং আদালতের নির্দেশেই বিচারপতিরা যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখছেন।