দিনের ব্যস্ত সময়ে খড়গপুরে (Kharagpur) গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্র। বুধবার সকালে রেল কলোনি সংলগ্ন এলাকায় গুলির আঘাতে গুরুতর জখম হয় দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া অক্ষয় ঝা (Akshay Jha, 12th grade student)। বুকে গুলি লাগার পর রাস্তায় পড়ে যায় সে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে তাঁকে।

আরও পড়ুন: রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে: তীব্র সমালোচনা তৃণমূলের, জরুরি অধিবেশনের দাবি বিধায়ক কুণালের

ঘটনার সময় অক্ষয় এক পরিচিত যুবকের সঙ্গে বাইকে ছিল। সাগর কুমার (Sagar Kumar) নামক এক যুবকের সঙ্গে মোটরবাইকে চেপে শহরের একটি এলাকায় গিয়েছিল সে। সেখানে রাস্তার ধারের একটি দোকানের সামনে বাইক থামিয়ে দু’জন কিছুক্ষণ দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময়ই আচমকা কয়েকজন বাইক আরোহী সেখানে এসে হামলা চালায়। স্থানীয়দের কথা অনুযায়ী হামলাকারীদের মুখ ঢাকা ছিল।

তবে হামলার আসল লক্ষ্য কে ছিল, তা নিয়েই এখন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অক্ষয়ের সঙ্গে থাকা সাগর জমি-বাড়ি সংক্রান্ত লেনদেনের মধ্যস্থতার কাজ করেন। তাঁর সঙ্গে অক্ষয়ের বন্ধুত্ব ছিল। ফলে সাগরকে কেন্দ্র করে কোনও পুরনো বিরোধের জেরে হামলা হয়ে থাকতে পারে কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। অন্যদিকে, অক্ষয়ই কি হামলাকারীদের নিশানায় ছিল, তা নিয়েও এখনও স্পষ্ট তথ্য মেলেনি। 

ঘটনার আরও একটি দিক তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, হামলার সময় দু’বার গুলি চালানো হলেও আশপাশের মানুষ গুলির আওয়াজ শুনতে পাননি। অস্ত্রে সাইলেন্সর ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও তদন্তের ফল মেলেনি। এদিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা অক্ষয়কে স্থানীয়রাই উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দেন। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে কলকাতায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: জামিন পেয়েও ৬০ দিন জেলে! রাজ্যকে ৫.৩৬ লক্ষ ক্ষতিপূরণের নির্দেশ হাই কোর্টের

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। খড়গপুর টাউন থানার (Kharagpur Town Police Station) আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছেন। আশপাশের বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি রেকর্ড খতিয়ে দেখে হামলাকারীদের গতিবিধি বোঝার চেষ্টা চলছে। সাগর কুমারকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্রটির পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। হামলার নেপথ্যে ব্যক্তিগত বিরোধ, পুরনো শত্রুতা নাকি অন্য কোনও কারণ সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।