নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব মিটতেই দুই কেন্দ্রে বিজেপি-র নিশ্চিত ও বিপুল ব্যবধানে জয়ের দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার ভোট শেষ হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, বিরোধীদের যাবতীয় অপপ্রচারকে উড়িয়ে দিয়ে মানুষ এককাট্টা হয়ে বিজেপি-র পক্ষেই রায় দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তৃণমূল ও বামেদের তীব্র কটাক্ষ করে সংখ্যালঘু ভোটের নয়া সমীকরণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। 

নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ২০২১ সাল থেকেই নন্দীগ্রাম বিজেপি-র সঙ্গে রয়েছে। তাঁর নিজের পূর্বের জয়ের ব্যবধানকে বিজেপি প্রার্থী কয়েকশো গুণ ছাপিয়ে যাবেন এবং এখানে জয়ের ঐতিহাসিক মার্জিন তৈরি হবে। অন্যদিকে রেজিনগর কেন্দ্র নিয়ে তাঁর বক্তব্য, প্রচুর পরিযায়ী শ্রমিক কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে থাকায় তাঁরা ভোটদানে অংশ নিতে পারেননি। তা সত্ত্বেও রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী অনায়াসে এক লক্ষ কুড়ি হাজারের বেশি ভোট পাবেন এবং আরামদায়ক ব্যবধানেই এই কেন্দ্রে দলের জয় আসবে। 

উপনির্বাচনে বিরোধীদের সার্বিক অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুই কেন্দ্রেই তৃণমূলের কোনও প্রকৃত অস্তিত্ব ছিল না। তাঁর কটাক্ষ, নন্দীগ্রামে সিপিআই এক-দেড় হাজার ভোট জোগাড় করতে পারবে কি না সন্দেহ, আর রেজিনগরে সিপিএমের স্থান ‘নোটা’-র নিচেও নেমে যেতে পারে। রেজিনগরে বিরোধীদের এজেন্ট বসতে না দেওয়ার অভিযোগ খারিজ করে সিপিএম নেতৃত্বকে বিঁধে তিনি মন্তব্য করেন, পরাজয়ের ভয়েই বামেরা এখন এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। 

রেজিনগরে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বিরোধীরা প্রচার চালালেও সংখ্যালঘু তরুণ প্রজন্ম ও মহিলারা বুঝেছেন যে বিজেপি সরকার কোনও ভেদাভেদ করে না। অন্নপূর্ণা যোজনার উদাহরণ টেনে তিনি জানান, রাজ্যে এই প্রকল্পের ১ কোটি ৫৮ লক্ষ উপভোক্তার মধ্যে ২৪ লক্ষ মুসলিম মহিলা রয়েছেন। কেবল রেজিনগরেই প্রায় ৩৫ হাজার মুসলিম মহিলা এই সহায়তা পাচ্ছেন এবং আবাস যোজনাতেও প্রায় ১০ হাজার সংখ্যালঘু পরিবার ঠাঁই পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, উন্নয়নের সুফল পাওয়ায় প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলিম মহিলা বিজেপি-কে সমর্থন করেছেন। বয়স্কদের কিছু ভোট অন্যান্য দিকে গেলেও যুব ও মহিলা ভোট বিজেপি-র ঝুলিতেই এসেছে, যা ফলাফলে প্রতিফলিত হবে।