এই দৃশ্য পশ্চিমবঙ্গে আগে কোনও দিন দেখা যায়নি। ভারতে এর আগে শুধু অসমেই এই ঘটনা ঘটেছে। ‘‘নেশা মুক্ত ভারত‘ গড়তে নিজেই রোড রোলার চালিয়ে নিষিদ্ধ কফ সিরাপের বোতল ভাঙলেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার, বালুরঘাটে পৌঁছে দু-লক্ষ কাফ সিরাপের (Cough Syrup) বোতল ভাঙার কর্মসূচিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder)। প্রতীকী হিসেবে বেশ কিছু বোতল নষ্ট করে দেন তাঁরা।
২০২৯ সালের মধ্যে ‘নেশা মুক্ত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য স্থির করেছে কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘নেশা মুক্ত ভারত’-এর অঙ্গ হিসেবে রাজ্যেও এই ধরনের নিষিদ্ধ মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। রোলার চালানোর পরে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বললেন, “আমার কর্মসূচির প্রথম বার্তা হল— যুবসমাজকে নেশা থেকে বের করে আনতে হবে।”
আবহাওয়ার কারণে সড়কপথে যেতে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। ফলে বেলা ১২টায় পৌঁছনোর কথা থাকলেও তিনটের কিছু আগে সেখানে পৌঁছন তিনি। ৩টে নাগাদ বালুরঘাটে পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে রাস্তায় সাজিয়ে রাখা বাজেয়াপ্ত করে ২ লক্ষ নিষিদ্ধ কফ সিরাফের শিশির সামনে রাখা রোড রোলারে শুভেন্দু। সঙ্গে সুকান্ত। বিধি মেনে দুজনেরই মাথায় ছিল হেলমেট। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও।
সাজিয়ে রাখা কাশির সিরাপের শিশিগুলির একটি অংশের উপর দিয়ে রোড রোলার চালান মুখ্যমন্ত্রী। নেমে এসে বলেন, “নেশামুক্ত ভারত অভিযান চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং সময়োপযোগী। সরকারের আসার পরে আমরা ব্যাপক পরিমাণে নেশাদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করেছি।”
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এই চার মাস বিএসএফ এবং পুলিশ যৌথ অভিযানে এই নেশাদ্রব্যগুলি বাজেয়াপ্ত করেছে। আমরা প্রতীকী ভাবে এগুলি ধ্বংস করলাম। পশ্চিমবঙ্গকেও আমরা নেশামুক্ত করব— এটাই বার্তা।” বাজেয়াপ্ত হওয়া এই নেশার দ্রব্যগুলি বাংলাদেশেই পাচার করার লক্ষ্য ছিল বলে অভিযোগ শুভেন্দুর। নিষিদ্ধ মাদকের কারবারিদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারিও দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যারা এসব কারবারে যুক্ত থাকবে, তাদের বছরের পর বছর জেলে থাকতে হবে।”
















