উত্তর ২৪ পরগনার পর এ বার খোদ কলকাতার বুকে নামীদামি রেস্তরাঁ ও জেলাগুলির খাদ্য বিপণিতে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের সাঁড়াশি অভিযান। ট্যাংরার এক জনপ্রিয় রেস্তরাঁ থেকে উদ্ধার হল প্রায় ৫০০ কিলোগ্রাম বাসি-পচা মাছ ও মাংস। একই সঙ্গে জলপাইগুড়ির লাটাগুড়ির রিসর্ট, হুগলির ভদ্রেশ্বরের বেকারি এবং রিষড়ার বিরিয়ানির দোকানে হানা দিয়ে চোখ কপালে ওঠার মতো ছবি দেখলেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। কোথাও ক্ষতিকর রাসায়নিক রঙের ব্যবহার, কোথাও বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পচা খাবারের স্তূপ প্রকাশ্যে আসায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভোজনরসিকদের মধ্যে।

খাদ্যপণ্যের গুণমানে কোনও রকম আপস করা হবে না এবং কারচুপি রুখতে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে আগেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল প্রশাসন। সেই নির্দেশ মেনেই এ দিন পুরসভা ও খাদ্য সুরক্ষা দফতর যৌথ অভিযানে নামে। কলকাতার ট্যাংরা অঞ্চলের জনপ্রিয় চিনা খাদ্য বিপণি ‘বিগ বস’-এ তল্লাশি চালাতে গিয়ে আধিকারিকেরা দেখেন, রেফ্রিজারেটরে অস্বাস্থ্যকর ও খোলা অবস্থায় মজুত করে রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাছ, মাংস ও পচা চিংড়ি। কোনও প্যাকেটের গায়েই মজুত করার নির্দিষ্ট তারিখের উল্লেখ ছিল না। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে প্রায় ৫০০ কিলোগ্রাম খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে সরাসরি পুরসভার ধাপার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ফেলে নষ্ট করার ব্যবস্থা করা হয়।

একই সময়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্রই নজরদারি জোরদার করেছে প্রশাসন। উত্তরবঙ্গের গরুমারা সংলগ্ন লাটাগুড়ির পর্যটনকেন্দ্রে মহকুমাশাসকের নেতৃত্বে বিভিন্ন রিসর্টে তল্লাশি চলে। পর্যটনের ভরা মরসুমে একাধিক রিসর্টের রান্নাঘরে মেয়াদ-উত্তীর্ণ ও নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার মেলায় তিনটি রিসর্টকে কড়া সতর্কবার্তা দেয় প্রশাসন।

অন্য দিকে হুগলির ভদ্রেশ্বরে খাদ্য সুরক্ষা বিধি না মানা ও চূড়ান্ত নোংরা পরিবেশের জন্য একটি বেকারিকে অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেন খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকেরা। সেখানে দেখা যায়, ঝুল ও মাছির উপদ্রবের মধ্যে কোনও রকম সুরক্ষাবিধি না মেনেই তৈরি হচ্ছে পাউরুটি। এ ছাড়া মিষ্টির দোকানের হেঁশেলেও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ধরা পড়ে।

রিষড়ার এক জনপ্রিয় বিরিয়ানির দোকানে অভিযানে গিয়ে কার্যত স্তম্ভিত হয়ে যান আধিকারিকেরা। দেখা যায়, বিরিয়ানিতে যে হলুদ রং মেশানো হচ্ছিল, তার পাত্রে স্পষ্ট লেখা রয়েছে যে তা মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়। খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক মধুমিতা ঘোষ জানান, এই ধরনের অখাদ্য রঙে দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত প্রস্তুত বিরিয়ানি ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। দোকানমালিক দোষ স্বীকার করে নেওয়ার পর সতর্কবার্তা জারি করা হয়। রিষড়া পুরসভা এবং চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিকেরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, খাদ্য সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না এবং এই ধারাবাহিক অভিযান গোটা রাজ্যেই জারি থাকবে।