কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এবং বীরভূমের তারাপীঠের হোটেলে পরপর ঘটে যাওয়া দুটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর দমকল দফতরে বড়সড় রদবদল ঘটাল রাজ্য সরকার। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও নজরদারির গাফিলতি নিয়ে রাজ্য জুড়ে তৈরি হওয়া তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের মধ্যেই রাজ্য দমকলের ১৭ জন ডিভিশনাল ফায়ার অফিসার (ডিএফও)-কে একযোগে বদলি করা হয়েছে। যদিও প্রশাসনিক স্তর থেকে এই পদক্ষেপকে ‘রুটিন বদলি’ হিসেবেই তুলে ধরা হচ্ছে, তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, দুটি সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৮ জনের প্রাণহানির ঘটনার পরেই ক্ষোভের আঁচ সামাল দিতে নড়েচড়ে বসেছে নবান্ন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নিউ মার্কেট চত্বরের মির্জা গালিব স্ট্রিটের (ফ্রি স্কুল স্ট্রিট) একটি হোটেলে আগুন লেগে বিদেশি নাগরিক-সহ ন’জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এর কয়েক দিনের মধ্যেই বীরভূমের তারাপীঠের একটি বেসরকারি হোটেলেও বিধ্বংসী আগুনে দুই শিশু-সহ আরও ন’জনের মৃত্যু ঘটে। দমকলের নাকের ডগায় এমন একের পর এক প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা হোটেলগুলির অগ্নি-সুরক্ষা অডিট ও প্রশাসনিক নজরদারির মান নিয়ে একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয় দফতরকে।

প্রশাসন সূত্রের খবর, এই বদলির তালিকায় জোড়া অগ্নিকাণ্ডের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলির দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদেরই মূলত সরানো হয়েছে। ফ্রি স্কুল স্ট্রিট যে বিভাগের আওতায় পড়ে, সেই দক্ষিণ কলকাতার ডিএফও শুভঙ্কর ঘোষকে বদলি করে তাঁর জায়গায় আনা হয়েছে নীহাররঞ্জন রায়কে। অন্য দিকে তারাপীঠ অগ্নিকাণ্ডের জেরে বীরভূম বিভাগের তৎকালীন ডিএফও অরিন্দম দেবনাথকে সরিয়ে বাঁকুড়ায় পাঠানো হয়েছে। বাঁকুড়া থেকে বীরভূমে দায়িত্ব নিয়ে আসছেন শ্যামসুন্দর দে। এ ছাড়া সম্প্রতি ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে অগ্নি-সুরক্ষা পরীক্ষা তদারকির দায়িত্বে থাকা আধিকারিক সরোজকুমার বাগকে উত্তর কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়েছে।