গ্রামীণ এলাকার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নত করতে বিপুল অর্থ খরচ করে বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল চিকিৎসা সরঞ্জাম (Medical Equipment)। কিন্তু সেই সরঞ্জামের একাংশের যন্ত্রাংশই এখন আর মিলছে না। বিষয়টি সামনে আসতেই কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর (West Bengal Health Department)। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বরাদ্দে কেনা চিকিৎসা সরঞ্জাম চুরি বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় এফআইআর (FIR) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সব জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের।
আরও পড়ুন: পুজোর আগে চা শ্রমিকদের জোড়া সুখবর: ২০% বোনাসের পর এবার বাড়ির মালিকানার ঘোষণাও মুখ্যমন্ত্রীর
স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ৬৪টি সরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা সরঞ্জাম চুরি বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে। এই তালিকায় রয়েছে ৫০টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র, ১৩টি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। সরঞ্জাম উধাও (Misplacement) হওয়ার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি নাম রয়েছে হাওড়ার (Howrah)। জেলার ২৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমন ঘটনার সন্ধান মিলেছে। তার মধ্যে ১৮টি কেন্দ্র রয়েছে সাঁকরাইলে। আরও সাতটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র শ্যামপুর ২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত।
সূত্রের খবর, কোভিড পরিস্থিতিতে গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে ২০২১-২২ অর্থবর্ষে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের মাধ্যমে এই চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আওতায় সেই অর্থ দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের চিকিৎসার সুবিধার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। সরকারি যন্ত্রপাতির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবহারের বিষয়েও আগে সতর্ক করা হয়েছিল প্রশাসনকে। ২০২৪ সালে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের তৎকালীন অধিকর্তা সব জেলার জেলাশাসক এবং মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের চিঠি দিয়ে এই সরঞ্জামগুলির সঠিক সংরক্ষণ ও ব্যবহারের উপর জোর দিয়েছিলেন।
এ বার সরঞ্জাম চুরি বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সামনে আসায় আরও কড়া অবস্থান নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, কোনও সরকারি চিকিৎসা সরঞ্জাম বা যন্ত্রাংশ উধাও হওয়ার খবর পাওয়া গেলে দ্রুত থানায় অভিযোগ দায়ের করতে হবে। শুধু অভিযোগ দায়ের করেই বিষয়টি শেষ হবে না। তদন্তে যদি যন্ত্রপাতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মী বা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তা হলে নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
এমনকি দায়িত্ব নির্দিষ্ট হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির গাফিলতির কারণে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়ে থাকলে, প্রযোজ্য পরিষেবা বিধি মেনে তাঁর বেতন বা পারিশ্রমিক থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের বলেন, সাধারণ মানুষের চিকিৎসার সুবিধার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করে কেনা সরঞ্জাম এ ভাবে উধাও হয়ে যাওয়া অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। যাঁদের হেফাজতে ওই সরঞ্জামগুলি ছিল, তাঁদের দায়িত্বের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে গাফিলতি প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের ক্ষতিপূরণ আদায়ের পথও খোলা রাখা হয়েছে।
















