রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে কার্যত কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরি। বিজেপির অত্যাচার ও পুলিশের হুমকির মুখে পড়ে দলের বহু কর্মী-সমর্থক এলাকাছাড়া হয়েছিলেন বলে অভিযোগ। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সেই ঘরছাড়া কর্মীদের বাড়ি ফিরিয়ে এনে এবং একজোট করে মঙ্গলবার থেকেই জোরদার প্রচার অভিযান শুরু করে দিলেন তিনি।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই সাংগঠনিক তৎপরতায় রেজিনগরের একাধিক অঞ্চলে দফায় দফায় বৈঠক সারেন রবিউল। সাতসকালে নিজের খাসতালুক মিরজাপুর ১ নম্বর অঞ্চলের পাশাপাশি কাপাসডাঙা ও বেগুনবাড়ি এলাকায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন তিনি। বেলা বাড়তেই বেলা ১১টা নাগাদ কাশীপুর, আন্দুলবেড়িয়া ১ ও ২, রামপুর ১ ও ২ এবং দাদপুর অঞ্চলে কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন তৃণমূল প্রার্থী।
আসন্ন উপনির্বাচনের লড়াইয়ে কে কোন বুথ বা অঞ্চলের দায়িত্ব সামলাবেন, এ দিন তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, সাংগঠনিক রণকৌশল হিসেবে অঞ্চল স্তরে পাঁচ জন, ব্লক স্তরে চার জন এবং জেলা স্তরে এক-দু'জন করে নেতৃত্বকে নির্দিষ্ট দায়িত্বে রাখা হচ্ছে। রবিউল জানিয়েছেন, বুধবার থেকেই সর্বাত্মকভাবে বাড়ি বাড়ি প্রচার শুরু করা হবে। জনসংযোগের এই কাজে দলের মহিলা কর্মীদেরই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। তাঁরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা ও আবেদন মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন।
বৈঠকের পাশাপাশি রেজিনগরের বিভিন্ন প্রান্তে জোরকদমে দেওয়াল লিখনের কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। মাঝে হালকা বৃষ্টি কাজে কিছুটা বাধা দিলেও কর্মীদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। রবিউলের দাবি, বিরোধীরা বিভ্রান্তিকর প্রচার চালালেও সংগঠনের রাশ শক্ত হাতেই রয়েছে। কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের পর জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল প্রার্থীর বক্তব্য, "পুলিশি বাড়াবাড়ি না হলে এবং বিজেপি সাধারণ মানুষকে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে দিলে রেজিনগরে আমাদের জয় নিশ্চিত। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে মানুষের ভরসা এখনও অটুট। গত কয়েক মাসে বিজেপির কুশাসন ও অত্যাচারে মানুষ বীতশ্রদ্ধ, ভোটের ব্যালটেই তাঁরা এর জবাব দেবেন।"
















