মোবাইলে লিঙ্ক, কয়েক ক্লিকেই ‘সাট্টা মটকা’-য় অংশ নেওয়ার সুযোগ। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই প্রলোভন দেখিয়ে চলছে অনলাইন জুয়ার (Online Gambling) কারবার। ‘জোড়ি’, ‘তিন নম্বর’-সহ বিভিন্ন ধরনের খেলায় টাকা ঢেলে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন বহু মানুষ। কলকাতা থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের বাসিন্দাদেরও এই চক্রের মাধ্যমে টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি সামনে আসার পর এবার সরাসরি আইনি পদক্ষেপ লালবাজারের (Lalbazar)।

পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে লালবাজারের সাইবার থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয়েছে। প্রতারণা ও জালিয়াতির পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং ‘প্রমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অফ অনলাইন গেমিং’ (PROG) আইনের ধারাতেও তদন্ত এগোচ্ছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সাধারণ জুয়াড়িদের কাছে পৌঁছতে ডিজিটাল মাধ্যমকেই হাতিয়ার করেছে একটি চক্র। হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব-সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে অ্যাপের লিঙ্ক। সেই অ্যাপ নামিয়ে নিলে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিভিন্ন নম্বরের খেলায় টাকা লাগানোর সুযোগ মিলছে বলে প্রচার করা হচ্ছে।

লালবাজার সূত্রে খবর, শহরে বেআইনি সাট্টার বিরুদ্ধে আগে থেকেই নজরদারি রয়েছে। কাগজে নম্বর লিখে চলা পুরনো ধাঁচের সাট্টার ঠেকগুলির বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে অভিযান হয়েছে। দক্ষিণ শহরতলি, পূর্ব কলকাতা এবং রেললাইনের আশপাশের নির্জন এলাকায় থাকা কয়েকটি আসরও গত কয়েক মাসে বন্ধ করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি। সেই নজরদারির মধ্যেই তদন্তকারীদের নজরে আসে সাট্টার নতুন ডিজিটাল রূপ। ‘মটকা’ নামটির সঙ্গে যুক্ত পুরনো পদ্ধতিতে কলসির ভিতর নম্বরের কাগজ রেখে সেখান থেকে ফলাফল নির্ধারণ করা হত। অনলাইন ব্যবস্থায় সেই ধারণাকেই প্রযুক্তির মাধ্যমে চালানো হচ্ছে। দু’টি নম্বরের ‘জোড়ি’ মিললে জেতার সুযোগ, আবার কোথাও তিন বা তার বেশি নম্বর নিয়েও বাজি ধরা হচ্ছে।

তদন্তকারীদের কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী, এই খেলায় প্রথম দিকে অল্প টাকা দিয়ে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ টাকা ফেরত পাচ্ছেন। ফলে ধীরে ধীরে আরও বেশি অর্থ বিনিয়োগের প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। পরে বড় অঙ্কের টাকা লাগালে সেই অর্থ হারানোর ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ। কিন্তু একবার এই জুয়ার চক্রে জড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই ফের টাকা ঢালছেন। তদন্তে এখন এই প্রচারের পিছনে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি অ্যাপটি কোথা থেকে পরিচালিত হচ্ছে, কারা তা ছড়াচ্ছে এবং অনলাইনে বাজির পুরো ব্যবস্থাটি কী ভাবে চালানো হচ্ছে। সেই তথ্যই খতিয়ে দেখছেন সাইবার থানার আধিকারিকরা।