দলীয় কার্যালয় দখলমুক্ত করার কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনার পর দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াল মুকুন্দপুর ও পূর্ব যাদবপুর থানা চত্বরে। তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিলে রক্তারক্তির পর এবার যুবনেত্রী উপাসনা চৌধুরীর বাড়ি ও গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এমনকি পূর্ব যাদবপুর থানায় পুলিশের সামনেই প্রাক্তন আইপিএস কর্তা তথা তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীরকে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। গোটা ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুণাল ঘোষ ও মহুয়া মৈত্ররা।
মুকুন্দপুরে দলীয় কার্যালয় দখলমুক্ত করতে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেছিলেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা। অভিযোগ, সেই মিছিলে লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায় বিজেপি। সংঘর্ষে একাধিক কর্মীর মাথা ফেটে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটে। এর পর আহতদের যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় চলছে, ঠিক তখনই উপাসনা চৌধুরীর বাড়ি ও গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। উপাসনার অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত একদল দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে ঢুকে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা ও মায়ের গায়ে হাত তোলে। তাঁকে রাস্তায় ফেলে চুল ধরে মারধর ও জামাকাপড় টেনে শ্লীলতাহানি করা হয়।
দলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও'ব্রায়েনও সমাজমাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন।পরিস্থিতি দেখতে তৃণমূলের তরফে নেতা-নেত্রীরা একে একে পূর্ব যাদবপুর থানায় পৌঁছলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। রাত আটটা নাগাদ তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় থানার ভেতরে প্রবেশ করতেই বাইরে মারমুখী জমায়েত গড়ে তোলে বিজেপির কর্মীরা। সেই সময় থানায় ঢুকতে গেলে গেটের মুখেই প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরের ওপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। মুখে গুরুতর আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হন তিনি।
খবর পেয়ে পূর্ব যাদবপুর থানায় পৌঁছন কুণাল ঘোষ। সেখানে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, "পূর্ব যাদবপুর থানায় এক ভয়াবহ পরিস্থিতি চলছে। থানার প্রধান গেট বাইরে থেকে ঘিরে রেখেছে বিজেপির মারমুখী বাহিনী। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় আক্রমণ করা হচ্ছে, এমনকি হাসপাতালে গিয়েও হামলা চালানোর চেষ্টা চলছে। এটা কি রাজ্যে জঙ্গলরাজ চলছে?" তিনি অবিলম্বে বিশাল পুলিশবাহিনী নামিয়ে থানা ও হাসপাতাল চত্বর স্বাভাবিক করার দাবি জানান।
ঘটনায় সমাজমাধ্যম এক্সে হুমায়ুন কবীরের রক্তাক্ত ছবি পোস্ট করে সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। ৫০ জন পুলিশকর্মীর সামনে এই ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, প্রাক্তন আইপিএস ও বিধায়কের ওপর থানার গেটেই নৃশংস আক্রমণ চালাল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা, আর পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখল। থানার গেট ভেঙে ঢোকার চেষ্টাও হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
এই হিংসাত্মক ঘটনার কড়া নিন্দা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছে তৃণমূল শিবির। তৃণমূলের স্পষ্ট বার্তা, বিরোধীদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা এখন সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে এবং বাংলায় গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটছে। ভয় দেখিয়ে বা শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিহিংসার রাজনীতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছে তৃণমূল। পাশাপাশি, তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন আইপিএস কর্তা হুমায়ুন কবীরের ওপর যে নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই ভোলা হবে না বলেও তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
















