ভাঙড় মহাবিদ্যালয় চত্বরে ছাত্র সংঘর্ষের রেশ আছড়ে পড়ল বারুইপুর আদালত চত্বরে। অশান্তির ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া দুই ছাত্রের জামিনকে কেন্দ্র করে এসএফআই এবং এবিভিপি সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াল আদালত চত্বরে। ঘটনার মাঝেই অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ডিম ও ইট ছোড়ার অভিযোগ উঠল এবিভিপি-বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। আদালত চত্বরে আইনজীবীর উপর এমন আক্রমণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে খবর, সোমবার ভাঙড় কলেজে ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় শাহরুখ আখতার আলি মোল্লা এবং আসলাম হাবিব নামে দুই ছাত্রকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ শুনানির পর আদালত ধৃত দুই ছাত্রের জামিন মঞ্জুর করে। তবে শুনানি শেষে বিকেলে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় আদালত চত্বরে। সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, সাড়ে তিনটে নাগাদ শুনানি শেষে আদালতের রায় বেরোনোর পরই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবিভিপি ও বিজেপি সমর্থকরা। সহকর্মীদের নিয়ে বাইরে বেরোতেই তাঁদের লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ডিম এবং ইট ছোড়া হয়। চলে অশ্রাব্য গালিগালাজও। প্রায় দু'ঘণ্টা আদালত চত্বরেই আটকে থাকতে হয় তাঁদের। ক্ষোভ প্রকাশ করে সায়ন প্রশ্ন তোলেন, প্রকাশ্য আদালত চত্বরে যদি এমন ঘটে, তবে আইনের শাসন কোথায়?

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে নামে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে আদালত চত্বরের নিরাপত্তা আঁটসাঁট করা হয়। পরে বারুইপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আইনজীবীর উপর হামলার এই ঘটনায় সমাজমাধ্যমে গর্জে উঠেছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি লিখেছেন, পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ব থেকে সওয়াল করে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার হওয়া ছাত্রদের জামিন করিয়েছেন একজন আইনজীবী। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামীরা তাঁর উপর শারীরিক হামলা চালিয়েছে। আক্রমণকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানানোর পাশাপাশি এই ঘটনার প্রতিবাদে গোটা আইনজীবী সমাজকে একজোট হয়ে ধিক্কার সমাবেশ গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন তিনি।