শিক্ষক দিবসের মঞ্চ থেকেই শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ(শনিবার) নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে রাজ্য সরকারের বিদ্যালয় শিক্ষা দফতর ও উচ্চশিক্ষা দফতরের উদ্যোগে "বিদ্যাসাগর শিক্ষা সম্মান" অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্য পূর্বতন সরকারের শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের সমালোচনা করেন। একইসঙ্গে তাঁর সরকার যে স্বচ্ছভাবে  শিক্ষক নিয়োগ করবে সেই বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। যার ফলে ‘শিক্ষক’ শব্দের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আগামী দিনে শিক্ষক নিয়োগে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাই হবে প্রধান মাপকাঠি এবং কোনও ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। এসএমএসের মাধ্যমে কখনও নিয়োগ হয় না। 

 

শুধু শিক্ষক নিয়োগ নয়, একইসঙ্গে আগামী দিনে আরও বেশি শিক্ষাকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বার্তাও দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, শিক্ষক-শিক্ষিকারা যাতে ভালো করে পড়াতে পারেন, সারাদিন যাতে মিড-ডে মিলের হিসেব না করতে হয়, তার জন্য শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করতে হবে। ল্যাবরেটরিতে লোক নিয়োগ করতে হবে, ঘণ্টা বাজানোর লোক নিতে হবে। মিত্র ইনস্টিটিউশনে সাপের কামড়ে এসএসকেএম যেতে হয়। কেন জানেন? তিন বছর কম্পোজিট গ্রান্ট পাননি। এটা দিয়েই কার্বলিক অ্যাসিড কেনা হয়। টাকার তো কোনও অভাব ছিল না। খেলা-মেলা, দুর্গাপুজোয় টাকা দেওয়া কোনও কিছুর তো অভাব ছিল না। এগুলো সরকারকে ভাবতে হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক মানোয়ন্নের জন্য পরিকাঠামোর আমূল বদলের কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। জাতীয় শিক্ষা নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শিক্ষাক্ষেত্রে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, রাজ্যের প্রায় ১৯ হাজার স্কুলে এখনও ন্যূনতম পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। পানীয় জল নেই, বসার ভালো বেঞ্চ নেই।  স্বাধীনতার এত বছর পরেও বাংলার স্কুলগুলির এই পরিস্থিতি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রভাব বৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। গুজরাটের উদাহরণ টেনে বলেন, স্কুল ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ভয়ঙ্কর কুপ্রভাব মোবাইল ফোন। খুব কঠিন সিদ্ধান্ত। ভোট কমে যাবে আমার। গুজরাট দেখুন ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস ওয়ান থেকে ১২ ক্লাস পর্যন্ত মোবাইল হাত দিতে দেয় না  । এইসব সংস্কার না করলে শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষক দিবসের মানে থাকবে না। 

প্রতিটি স্কুলে এনসিসি চালু করা এবং খেলাধুলার উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।  এমনকি ক্রীড়া ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য দুটি বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। যেখানে অনেক ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ হবে। যেখান থেকে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলিট তৈরি হবে। প্রতিটি জেলায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় মডেলে স্কুল তৈরি করবে রাজ্য। এই বিদ্যালয়গুলির নাম হবে সিএম শ্রী ইনস্টিটিউট। প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে এখানে ভর্তি  হওয়া যাবে।  বিশিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের সংবর্ধনা দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে।