রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক রয়েছে সরকার, শুক্রবার জরুরি বৈঠক থেকে জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের (DVC) জল ছাড়ার ফলে তৈরি হওয়া বন্যা পরিস্থিতির অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেন কোনও বাঁধের ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে গেলে তখন জল ছাড়তেই হবে। ২০-৩০ হাজার বা ৪০-৫০ হাজার পরিমাণ জল ছাড়ার সময় কোনও বড় প্রভাব দেখা যায়নি। এক লক্ষ কিউসেক জল ছাড়তে যে প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে তার দিকে সম্পূর্ণ নজর রেখেছে প্রশাসন। পাশাপাশি DVC ভাল কাজ করছে বলেও এদিন উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, চলতি বর্ষায় এখনও পর্যন্ত ডিভিসির কোনও বাঁধ ভাঙেনি।বেঙ্গল ক্যাডারের আইএএস রাজেশ পাণ্ডে চেয়ারম্যান হয়েছেন। ভালো কাজ হচ্ছে। অতীতে বাঁধ ভেঙে বালির বস্তা ফেলার পরিস্থিতি তৈরি হত বলেও এদিন পূর্বতন সরকারকে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। 

 বিরোধীদের একাংশ মুখ্যমন্ত্রীর ডিভিসিকে ক্লিনচিট দেওয়া নিয়ে সমালোচনা করলেও জলসম্পদ ভবনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, "ড্যামের ক্যাপাসিটির বাইরে বৃষ্টি হলে তো জল ছাড়বেই! তার মোকাবিলাও করতে হবে! আমরা সামলে নেব।’তার জন্য ‘কেন্দ্র জল ছেড়ে দিয়েছে’, ‘ডিভিসি জল ছেড়ে দিয়েছে’, ‘ম্যান মেড বন্যা’, ‘আমি ভাল, সবাই খারাপ’, এ সব কথা তো আমি বলব না।’’ পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বন্যা কিংবা বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য পরিকল্পনার অভাব ছিল বলে দাবি করে শুভেন্দু বলেন, করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘অন্যান্য বছর এই জুলাই-অগস্টে তো পঁচিশ জায়গায় উৎসব হয়ে যেত বালির ব্যাগের। প্রত্যেক জিনিসের সীমাবদ্ধতা আছে। আপনারও আছে, জলাধারেরও আছে। এই জন্য ‘চ্যালেঞ্জ’ বলে একটা শব্দ আছে। চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। মোকাবিলা করতে হয়।’’জন্মাষ্টমীতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে কিন্তু তার মধ্যেও মুখ্যমন্ত্রী বৈঠক করছেন এবং সরকারি আধিকারিকরা বন্যা পরিস্থিতিতে কিভাবে দূর্গতদের উদ্ধার করা যায় সেদিকে নজর রাখছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেন এর আগে ছুটির দিনে এমন কাজে তাঁকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) পাওয়া যেত না। 

এবছর বর্ষা খাতায়-কলমে বিদায় নিলেও নিম্ন চাপের দাপট এখনো অব্যাহত। তার উপর ডিভিসি জল ছাড়াই হাওড়া-হুগলির একাধিক এলাকায় ইতিমধ্যেই প্লাবিত। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ পরিস্থিতির সম্পর্কে অবগত আছেন এবং এখনও পর্যন্ত ঘাটাল ঠিক আছে বলেও মন্তব্য করেছেন।তাঁর কথায়, ‘‘বিপদসীমার উপরে নদীর জল রয়েছে খানাকুল, জাঙ্গিপাড়া এবং উদয়নারায়ণপুরে। জল ছাড়ার মাত্রাও কমেছে। বৃষ্টিও কমেছে। বিকেলের পর থেকে জল কমে যাবে, যদি না নতুন করে বৃষ্টি হয়। সব কন্ট্রোলে আছে। সরকারের যা করণীয়, তাই করা হচ্ছে। কোথাও কোনও খামতি রাখছি না।’’ যদিও বিরোধীদের তরফ থেকে অভিযোগ, যে ডিভিসি-র লাগামছাড়া এক লক্ষ কিউসেকের বেশি জল ছাড়ার জেরে আজ হুগলির খানাকুল, জাঙ্গিপাড়া, গোঘাট এবং হাওড়ার আমতা, উদয়নারায়ণপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায়, তাদের কাঠগড়ায় তোলার বদলে খোদ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান তাদের হয়ে সাফাই গাইছেন!