রাজ্যের একাধিক জেলায় বন্যার প্রভাব থাকলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Chief Minister Suvendu Adhikari)। জলসম্পদ ভবন (Water Resources Bhavan) থেকে বিভিন্ন জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের (Virtual Meeting) পর তিনি জানান, দুর্গত মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনা থেকে শুরু করে খাবার, পানীয় জল, চিকিৎসা ও যাতায়াত সব ক্ষেত্রেই বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি রাখা হয়েছে। নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতে পারে বলেও আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী।

মালদহ, হাওড়া এবং হুগলির (Hooghly) বেশ কিছু এলাকাকে এখন বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। মালদহের ভূতনিতে গঙ্গার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। সেচমন্ত্রী ও রাষ্ট্রমন্ত্রী জুয়েল মুর্মু (Irrigation Minister and Minister of State Jewel Murmu), বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল এবং জেলা প্রশাসন ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে নজর রাখছেন। আটটি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। অন্যদিকে আমতা, উদয়নারায়ণপুর, খানাকুল, জাঙ্গিপাড়া ও গোঘাটের (Goghat) প্রভাবিত এলাকাগুলিতেও পৌঁছে যাচ্ছে প্রয়োজনীয় সাহায্য। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, জল কমার অপেক্ষায় বসে না থেকে প্রশাসন আগেভাগেই উদ্ধার ও ত্রাণের সমস্ত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

বিপর্যস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধারকাজে বিভিন্ন বাহিনী ও প্রশাসনিক কর্মীদের নামানো হয়েছে। স্পিডবোট, নৌকা ও ডুবুরি দল প্রস্তুত রয়েছে। জলবন্দি মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুর নিরাপত্তার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। বর্ষার সময় সাপের উপদ্রব বাড়ার আশঙ্কায় সাপের উপদ্রবের আশঙ্কায় পর্যাপ্ত অ্যান্টি-ভেনম (Anti-Venom) মজুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এসডিআরএফ (SDRF), এনডিআরএফ, সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ, ডুবুরি, স্পিডবোট ও দেশি নৌকা মোতায়েন রয়েছে। মালদহে রেল যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য বাস পরিষেবা চালু করার পাশাপাশি খাবার ও পানীয় জল দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তাঁদের থাকার দায়িত্বও নেবে রাজ্য সরকার, জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

ডিভিসির (DVC) জল ছাড়া নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী বাস্তব পরিস্থিতির কথাই তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, অতিবৃষ্টিতে জলাধারে জল ধারণের সীমা ছাড়িয়ে গেলে জল ছাড়া অনিবার্য হয়ে ওঠে এবং তার প্রভাব সামলানোর জন্য প্রশাসনিক প্রস্তুতিই সবচেয়ে জরুরি। সেই কারণেই রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবর্তে এখন সরকারের মূল লক্ষ্য, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং দুর্গত প্রতিটি মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছে দেওয়া।