দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব তুলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আয়োজিত এক সভা থেকে তাঁর দাবি, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঋষি অরবিন্দের আদর্শ ও স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে ‘ঋষি অরবিন্দ বিশ্ববিদ্যালয়’ রাখা হোক। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চ থেকে তথাকথিত ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’র বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার ডাক দেন তিনি। তবে শিক্ষাঙ্গনের একটি সভায় শিক্ষামূলক বিষয়ের পরিবর্তে তীব্র রাজনৈতিক বক্তব্য এবং নামবদলের দাবি ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
বৃহস্পতিবার সকালে ক্যাম্পাসে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর ‘তেরঙ্গা যাত্রা’ ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মতো নানা কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে হরিপদ ভারতী স্মৃতিরক্ষা সমিতির উদ্যোগে ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়ামে এক সভার আয়োজন করা হয়। রাহুল সিনহা এবং সুখেন্দুশেখর রায়ের উপস্থিতিতে সেই সভায় অংশ নিয়ে শুরু থেকেই বামপন্থী ভাবধারার বিরুদ্ধে সুর চড়ান শর্বরী। তিনি মন্তব্য করেন, এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাওবাদ ও লেনিনবাদের বিরুদ্ধে কথা বলাই একটি বড় লড়াই। ২০২৬ সালের নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, সে সময় রাজ্যের মানুষ একজোট না হলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হত।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে নিজের সাজপোশাক ও ব্যক্তিগত আক্রমণ প্রসঙ্গে কড়া অবস্থান নেন বিধায়ক। তিনি সাফ জানান, তাঁর বক্তব্য বিকৃত করে কিংবা শাড়ি, টিপ ও কাজল নিয়ে কটাক্ষ করে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান থেকে তাঁকে সরানো যাবে না। রাষ্ট্রবাদের প্রশ্নে তিনি কোনও আপস করবেন না বলেও দাবি করেন।
সবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামবদলের দাবিতে রাজ্য ও কেন্দ্রের কাছে গণস্বাক্ষর জমা দেওয়ার কথা বলেন তিনি। তাঁর দাবি, এটি বাস্তবায়িত হলে তা প্রতিষ্ঠানের গৌরব বৃদ্ধি করবে। তবে শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, জাতীয় শিক্ষা পরিষদের সুদীর্ঘ ইতিহাস ও যৌথ উদ্যোগের পটভূমিকে গুরুত্ব না দিয়ে হঠাৎ এমন নামবদলের দাবি এবং শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক বক্তব্য তোলা কতটা প্রাসঙ্গিক, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
















