বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকার পর অবশেষে চিকিৎসায় (Medical Treatment) সাড়া দিয়ে ফের স্বাভাবিক ভাবে হাঁটাচলা শুরু করল জঙ্গলমহলের অতি পরিচিত হাতি ‘রামলাল’। বৃহস্পতিবার সকালে লালগড় রেঞ্জের ঝিটকা বিটের জঙ্গলে তাকে ঘুরতে দেখা যায়। বন দফতর (Forest Department) সূত্রে খবর, বর্তমানে আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ রয়েছে হাতিটি। কয়েকদিন আগে ‘রামলালে’র পিছনের বাঁ পায়ে রডের মতো কোনও বস্তু ঢুকে ক্ষত তৈরি হয়েছিল। এরপর মেদিনীপুর বন বিভাগের আড়াবাড়ি রেঞ্জের মিরগা বিটের সীমান্তবর্তী ৫৫৫ গেটের কাছে তাকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন হাতি সংক্রান্ত গ্রুপের মাধ্যমে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য বন দফতরের কাছে আবেদন জানানো হয়।
খবর পেয়ে ১ সেপ্টেম্বর বনকর্মী ও পশু চিকিৎসকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পান, পায়ের চোটের কারণে খুঁড়িয়ে হাঁটছে ‘রামলাল’। পরেরদিন প্রাণী চিকিৎসক চঞ্চল দত্তের নেতৃত্বে তিন সদস্যের চিকিৎসক দল গঠন করা হয়। চিকিৎসক সত্যেন দাস এবং মৃণাল রানা হাতিটিকে (Elephant) পরীক্ষা করে বাঁ পিছনের পায়ের নিচের অংশে ক্ষত রয়েছে বলে জানান। এমনিতে ওষুধ মুখে নেওয়ার পক্ষপাতী রামলাল নয়। অতএব উপায়? কুমড়োর সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে ‘রামলাল’কে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয় এবং সুস্থ বোধ করতেই ফের চলাফেরা শুরু করে হাতিটি।
বৃহস্পতিবার প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ঝিটকার জঙ্গলে ঢুকে পড়ে ‘রামলাল’। তাকে ফের স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করতে দেখে স্বস্তি পেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই প্রথম নয়, এর আগেও এপ্রিল মাসে ‘শ্যামলাল’ নামে অন্য একটি হাতির সঙ্গে সংঘর্ষে তার পায়ে চোট লাগে। পরে মানিকপাড়া রেঞ্জের গোবিন্দপুর জঙ্গলে তার চিকিৎসা করা হয়। সবথেকে বড় বিষয় হল, জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের কাছে ‘রামলাল’ শুধু একটি হাতি নয়, দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় পরিচিত মুখ। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাকে ঘিরে স্থানীয়দের আবেগও যথেষ্ট। জানা গিয়েছে রামলালে’র যাতায়াতের জন্য একটি চালকলের দরজাও খোলা রাখা হয়।
















