নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে ভূমিধসের জেরে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে বৃহস্পতিবার থেকে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে রেললাইন মেরামতির কাজ চালাচ্ছে রেল। এরইমধ্যে আরও বড় বিপদের অশনি সংকেত দিচ্ছে এই ভূমিধস। আগামী দিনে গঙ্গা এবং পদ্মার মিশে যেতে পারে যার জেরে বদলে যেতে পারে মুর্শিদাবাদের মানচিত্রই।
মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে নদী ভাঙন একটা বড় সমস্যা, সাম্প্রতিক এই ভূমিধস নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যা আরও বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছেই একদিকে পদ্মা নদী ওপর দিকে ভাগীরথী বা হুগলি নদী বইছে। পশ্চিমবঙ্গে যা গঙ্গা নামে পরিচিত। এই মুহূর্তে দুটি নদীর মধ্যে দূরত্ব মাত্র দেড় কিলোমিটার। খুব দ্রুত নদী ভাঙন রোধ করতে না পারলে নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছেই মিশে যেতে পারে গঙ্গা এবং পদ্মা। এর ফলে মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ান বল্লারপুরের মত বহু এলাকা চিরতরে হারিয়ে যাবে। এমনকি মালদা মুর্শিদাবাদের মধ্যে রেল এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অনির্দিষ্টকালের ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে।এমনই আশঙ্কা করছেন নদী বিশেষজ্ঞরা তাই দ্রুত ভাঙ্গন প্রতিরোধ করতে না পারলে আরো বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।
নদী বিশেষজ্ঞ কৌশিক চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ফরাক্কা বাঁধ যখন তৈরি হল তখন কলকাতা বন্দর থেকে জল দেওয়া শুরু হয়। এরপর বাংলাদেশেও জলের জন্য আবেদন করতে থাকে। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে জল চুক্তি হলে তখন থেকেই সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকল। জলচুক্তির ফলে সমস্যা তৈরি হল এবং একটা চর তৈরি হলো। জল শুকোতে শুরু করল। আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। ভাঙন রোধ করতে না পারলে দেড় কিলোমিটার স্থলভাগ বিলুপ্ত হতে পারে। যার ফলে পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্র যেমন বদলে যাবে তেমনি ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার ফরাক্কার ভূমিধসের জেরে গত দুদিন ধরে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়েছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চেষ্টা চালাচ্ছে রেল। ইতিমধ্যেই রেললাইনে কাজ সম্পন্ন শেষ হয়েছে। ট্রায়াল রান শুরু হয়েছে। মনে করা শনিবার রাতের মধ্যে উত্তর এবং দক্ষিণ বঙ্গের মধ্যে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে।
প্রবল বৃষ্টির জেরে নিউ ফরাক্কার কাছে রেললাইনে ধস। যার জেরে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ কার্যত বিপর্যস্ত। শুক্রবার সকালে মেরামতিতে নতুন সমস্যা দেখা দেয়। মেরামতির কাজ চললেও এলাকায় একটি পুকুরের পাশে নতুন করে ধস নামে।
















