আরও চাপে বিধানসভার অস্থায়ী বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের আবেদনের ভিত্তিতে এবার তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে বালুরঘাটের এক মহিলার অভিযোগ ফের ও মামলা সংক্রান্ত বিষয় ফের 'যথাযথভাবে' খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বিষয়টি বিধায়ক কুণালকে জানাতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়ালকে লিখিতভাবে এই নির্দেশ দিয়েছে অমিত শাহর (Amit Shah) দফতর। চিঠির কপি পাঠানো হয়েছে কুণালকে। কেস রি-ওপেন করার আর্জিও জানিয়েছেন বেলেঘাটার বিধায়ক।

এই পুরো বিষয়টি নিয়ে নিজের স্যোশাল মিডিয়ায় (Social Media) পোস্ট করেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। বালুরঘাটের ওই মহিলার করা অভিযোগ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সমস্ত তথ্য, নথি ও ছবি সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেন কুণাল। সঙ্গে তিনি নিজে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যে চিঠি পাঠিয়েছিলেন তাও দেন কুণাল।

ঋতব্রতকে তীব্র আক্রমণ করে কুণাল লেখেন, “অস্থায়ী বিরোধী দলনেতা চাটনের বিরুদ্ধে সেই মহিলার অভিযোগ ও মামলা সংক্রান্ত বিষয় আবার 'যথাযথভাবে' খতিয়ে দেখতে হবে রাজ্য সরকারকে। এবং জানাতে হবে বিধায়ক কুণাল ঘোষকে। রাজ্যের মুখ্যসচিবকে লিখিতভাবে এই নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, তাঁর দপ্তরের মাধ্যমে। চিঠির কপি পাঠানো হয়েছে আমাকে। চিঠি আসছে, বিশেষ সূত্র থেকে বার্তা পেয়েছিলাম। জন্মাষ্টমীর দিন এটি হাতে পেলাম। এরপর যথাযথ সময়ে আমি মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে নেব। চাটনের বিরুদ্ধে 'যথাযথভাবে' তদন্ত কীভাবে করাতে হয়, এবার সেই পর্ব শুরু। চাটনকে ঘিরে বালুরঘাটের মহিলার অভিযোগসহ বিভিন্ন তথ্য, নথি ও ছবি দিয়ে আমি চিঠি পাঠিয়েছিলাম কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। এসব পচা মালপত্রকে প্রমোট করাটা যে তাঁদের পক্ষেও খারাপ, সেটাও লিখি। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিঠিটি বিবেচনা করে তাঁর দপ্তরকে দিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে পাঠিয়েছেন। বলা হয়েছে 'যথাযথভাবে' দেখতে। আমি কেস রি-ওপেন করার দাবি রেখেছি। মহিলার কী হল, মৃত্যু হয়ে থাকলে তার প্রকৃত কারণ কী, এখন এসব দেখতে হবে। আশা করি রাজ্য সরকার চাটনকে আড়াল করতে যাবে না। গোটা প্রক্রিয়া নজরে থাকবে। যে অফিসার আড়াল করতে যাবেন, যথাযথ পদক্ষেপ নেব।“  

‘ভালো তৃণমূলী’দের যেকোনও অভিযোগ থেকে যে ছাড় দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন কুণাল। তিনি লেখেন, “চিঠিতে আমি আরও লিখেছি, যারাই মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করছে, তারাই তদন্ত থেকে বাঁচছে, এই ধারণাটা খুব খারাপ হচ্ছে।“

পোস্টের শেষএ তাঁর অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্যে অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক। তিনি লেখেন, “আমার চিঠিটির বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে সংশ্লিষ্ট নির্দেশ পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে, অন্তত এই ইস্যুতে, ধন্যবাদ। চাটন যাদের নানা গল্প শুনিয়ে সঙ্গে রাখছে, তাঁরা ভাবুন, এই বালিশে জিভ বোলানো মালটার সঙ্গে থাকবেন? বিবেকে লাগছে না? *চাটন এবার সামাল দিতে অন্য ছুতোয় দিল্লি গিয়ে বিজেপি নেতাদের জুতো চাটবে।“