আরজি করের (RG Kar) চিকিৎসক-পড়ুয়ার মৃত্যুকে ঘিরে একাধিক প্রশ্নের উত্তর অধরাই। ঘটনার নেপথ্যে আর কেউ ছিল কি না, হাসপাতালের ভিতরের কোনও অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না এ বার সেই সব অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই কাজ শুরু করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের গঠিত বিশেষ অনুসন্ধান কমিটি (Special inquiry committee constituted by the Health Department)।
বৃহস্পতিবার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শুভ্রকমল মুখোপাধ্যায়ের (Retired Justice Shubhrakamal Mukherjee) নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের ওই কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। কমিটিতে রয়েছেন প্রাক্তন স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা দেবাশিস ভট্টাচার্য (Former Director of Medical Education Debashis Bhattacharya), ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তাপস বসু (Forensic expert Tapas Basu), অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস তথা বিজেপি বিধায়ক রাজেশ কুমার (Retired IPS officer and BJP MLA Rajesh Kumar) এবং এনএসজির প্রাক্তন সদস্য তথা বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী (Former NSG member and BJP MLA Dipanjan Chakraborty)। অনুসন্ধানমূলক কাজের অভিজ্ঞতার কথা বিবেচনা করেই দুই বিধায়ককে কমিটিতে রাখা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর।
নতুন কমিটির সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে আরজি করের দুর্নীতির অভিযোগ এবং তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর সঙ্গে তার সম্ভাব্য সম্পর্ক খতিয়ে দেখা। পাশাপাশি হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোয় কোথায় ঘাটতি ছিল এবং ঘটনার পর সেই ত্রুটিগুলি কতটা সংশোধন করা হয়েছে, তাও অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘অভয়ার সঙ্গে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনা বাংলার মানুষকে গভীর ভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আনার লক্ষ্যে একটা স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভয়ার পরিবার এবং সমগ্র চিকিৎসক সমাজের পাশে আমরা রয়েছি। কোনও আপস ছাড়া দ্রুত ন্যায়বিচার হবে। নিরপেক্ষ বিচার হবে।’’
এই নতুন অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপটে আবার সামনে এসেছে নির্যাতিতার পরিবারের দীর্ঘদিনের অভিযোগও। তাঁদের দাবি, ঘটনার আগের রাতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই রাতে নির্যাতিতা কয়েক জন জুনিয়র চিকিৎসকের সঙ্গে খাবার খেয়েছিলেন এবং তাঁদের সঙ্গে তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের কোনও যোগাযোগ ছিল কি না, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এক জুনিয়র চিকিৎসকের বয়ান রেকর্ড না হওয়ার অভিযোগও আদালতে তুলেছিল পরিবার। অন্য দিকে, মূল তদন্তে সঞ্জয় রায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন সাজা পেলেও তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে পরিবার নতুন করে অনুসন্ধানের দাবি জানিয়ে আসছে। সিবিআইয়ের নতুন তদন্ত নিয়েও হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন তুলেছিল। ফলে স্বাস্থ্য দফতরের এই বিশেষ কমিটির কাজ শুরু হওয়ার পর আরজি কর-কাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে উত্তর না-মেলা প্রশ্নগুলির নতুন করে সমাধান মেলে কি না, এখন সেদিকেই নজর।
















