“আমাদের আইটি অফিসের মধ্যরাতে বিজেপি গুন্ডাদের পাঠিয়ে হামলা করেছে। আমাদের অফিসিয়াল কাগজপত্র রেকর্ড দলিল সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে। আমাদের লোককে টর্চার করে আটকে রেখেছে। অত্যাচার বন্ধ না করলে দিল্লিতে বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে গিয়ে ধর্না দেব।“ ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল (TMC) কার্যালয়ে ভোরবেলা হামলার ঘটনায় গর্জে উঠলেন তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার, বিকেল সাড়ে চারটেয় নিজের স্যোশাল মিডিয়া (Social Media) পেজে লাইভ করেন হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সাফ জানান, ”আমাদের শান্তিতে থাকতে দিন এটা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। আপনারা জেন জি-র মুভমেন্ট দেখেছেন, বাংলার মা-বোনেদের আন্দোলন দেখেননি।” 

বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে তৃণমূল সভানেত্রী বলেন, ”যাবে থেকে ক্ষমতায় এসেছে সব অগণতান্ত্রিকভাবে অনৈতিকভাবে লণ্ঠিত করছে। কলকাতার বুকে যাঁরা মধ্যযুগীয় বর্বরতা করতে পারে সারা বাংলায় কী হচ্ছে একবারও বুঝতে পারছেন! বাংলা সংস্কৃতি অস্তিত্ব বাংলার শিক্ষা সম্প্রীতি সভ্যতা সব বিপন্ন হচ্ছে।”

গেরুয়া শিবিরের সন্ত্রাসের অভিযোগ, সম্প্রতি আনন্দবাজার পত্রিকার অফিসে গেরুয়া রং করে দেওয়ার ঘটনার উল্লেখ করেন মমতা। তাঁর কথায়, ”সংবাদমাধ্যমকেও ছেড়ে কথা বলছে না যতক্ষণ আপনার পক্ষে আছে ততক্ষণ তারা খুব ভালো আর যখন আপনার পক্ষে নেই তখন আপনি গেরুয়া রং করতে যাচ্ছেন। এর পরেই সরকারি অনুষ্ঠানে বিজেপি নেতা-মন্ত্রীদের গেরুয়া কার্পেটের উপর দিয়ে হাঁটার নিন্দা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বলেন, একটা সরকারি প্রোগ্রামিং গেরুয়া কার্পেটের উপর দিয়ে আপনারা হেঁটে যাচ্ছেন। গেরুয়া পবিত্র, ত্যাগের প্রতীক। গেরুয়া রঙের উপর দিয়ে পেরিয়ে যাচ্ছেন যাঁরা তাঁরা অন্য জায়গায় গেরুয়া শব্দ শুধু বলেছে বলে আক্রমণ করছেন। কোন সাংবাদিক কোন শব্দ চয়ন করবেন সেটা তাঁদের একান্ত অধিকার। যাদবপুর ইউনিভার্সিটি (Jadavpur University) কেস নিয়ে তাঁরা গেরুয়া শব্দ ব্যবহার করেছিলে বলে আপনারা তাঁদের অফিস রং করতে গেছিলেন। আপনাদের কী অহংকার! বর্তমান অফিস দখল করবেন বলে অনেক থ্রেট করেছিলেন। অনেক ডিজিটাল টিমকে অ্যারেস্ট করেছেন। সোশ্যাল নেটওয়ার্ক যারা করেন তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই মানুষের স্বাধীনতা থাকবে কীভাবে।”

হুঙ্কার দিয়ে মমতা বলেন, ”যতদিন ভারতে গণতন্ত্র বেঁচে থাকবে, ততদিন গণতন্ত্রের সঙ্গে আমরাও বেঁচে থাকব। দিল্লিতে বসে যারা বাংলায় হুলিগানিজম, লুঠপাট এবং দুষ্কৃতীর রাজনীতিকে উৎসাহ দিচ্ছেন, তাঁদের মনে রাখা উচিত একদিন সেই একই রাজনীতি তাঁদের নিজেদের সংগঠনকেই ধ্বংস করতে পারে। আপনারা হয়তো অন্য জায়গায় যুবকদের আন্দোলন দেখেছেন, কিন্তু এখনও বাংলার যুবসমাজের আন্দোলন দেখেননি। বাংলার ছাত্রছাত্রী, মা-বোনেদের আন্দোলন এখনও দেখেননি। প্রয়োজন হলে বাংলা থেকে দিল্লি পর্যন্ত আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে পারি। কতদিন আমাদের আটকাবেন? কতদিন আমাদের বাড়ি থেকে বেরোতে দেবেন না? কতদিন আমাদের দলীয় কাজ করতে বাধা দেবেন? এই অত্যাচার, এই ঔদ্ধত্য এবং এই দুষ্কৃতীর রাজত্ব আর কতদিন চলবে?”

তৃণমূল সুপ্রিমো অভিযোগ করেন, ”এমনকী প্রকৃত বিজেপি কর্মীরাও ভুগছেন। আপনারা নিজেদের বিজেপি সংগঠন এবং নিজেদের প্রকৃত কর্মীদেরই ধ্বংস করছেন। আপনারা নিজেদের জমি হারাচ্ছেন। আমি মনে করি, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে সম্মান করা উচিত। আমি শুধু নিজের দলের হয়ে কথা বলছি না, আপনাদের দলের হয়েও কথা বলছি। আপনাদের নিজেদের দলের পরিস্থিতি কী, তা কি আপনারা জানেন? আপনাদের নামে যারা কাজ করছেন, তারা কী করছেন, তা কি আপনারা জানেন? আমাদের ৪,০০০-এরও বেশি পার্টি অফিস লুঠ বা দখল করা হয়েছে। আমাদের কর্মীদের বাড়ি থেকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিদিন আমাদের বিরুদ্ধে FIR করা হচ্ছে। আপনারা যতক্ষণ না ক্লান্ত হচ্ছেন, ততক্ষণ একের পর এক FIR করতে পারেন। কিন্তু কোনওদিন আমাদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতে পারবেন না।” 

এর পরেই স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন, ” অত্যাচার বন্ধ না করলে দিল্লিতে বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে গিয়ে ধর্না দেব।“