বর্ষার মরসুমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ডেঙ্গির সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে একাধিক মৃত্যুর খবর মিলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পুরসভাগুলির নজরদারি আরও জোরদার করতে এ বার সক্রিয় হল নবান্ন। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ভবনে এক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ডেঙ্গির উপসর্গ নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ৮০০ জন রোগী। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জলপাইগুড়ির মাল, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়, নদিয়ার চাকদহ এবং মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের মতো এলাকাগুলিতে সংক্রমণ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, গত বছরের তুলনায় সার্বিক আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৫ শতাংশ কম হলেও, বর্ষার শেষ পর্বে সংক্রমণের স্বাভাবিক নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রাখতে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের সৌন্দর্যায়নের কাজে ব্যবহৃত জলাশয় ও খোলা জায়গাগুলিতে যাতে জল জমে মশার লার্ভা না জন্মায়, সে দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য, পুর ও নগরোন্নয়ন, সেচ, পরিবহণ এবং রেল-সহ বিভিন্ন দফতরকে নিয়ে যৌথ পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জমা জল দ্রুত নিষ্কাশন, নিয়মিত কীটনাশক স্প্রে করা এবং সাফাই অভিযান আরও জোরদার করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। স্থানীয় পুর প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের যৌথ সচেতনতাই ডেঙ্গির এই মরসুমি সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য দফতর।
















