গত আমলে রাজ্যের সমবায় ও কো-অপারেটিভ ব্যবস্থার অবনতি হয়েছে। এর গুরুত্ব না বুঝে একনায়কতন্ত্র চালানো হয়েছে। সোমবার, উত্তর চব্বিশ পরগনার 'নর্থ ২৪ পরগনাস মহিলা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেড'-এর ৩৫তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই ভাবেই পূর্বতন সরকারকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কারও নাম না করে তাঁর অভিযোগ, “আগে সবাই তো ল্যাম্পপোস্ট ছিল, একটাই পোস্ট! বোঝালেও বুঝত না। কেউ কিছু বলতে গেলেই বলত, 'আমি তো সব জানি।'” সমবায় ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন ২৩০০০ মহিলা সদস্য সম্বলিত এই কো-অপারেটিভ (Co-Operative) সংস্থার প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তুলসীগাছে প্রণাম জানান মুখ্যমন্ত্রী। গত সরকারকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, রাজ্যে ৬ হাজারের বেশি সমবায় সমিতির মধ্যে প্রায় ২ হাজারই অকেজো। ইঞ্জিনিয়ার্স কো-অপারেটিভের ২৫ শতাংশ কাজের কোটা বন্ধ করা হয়েছে। ১২ বছর কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক ও ১০ বছর ওয়েবস্কে নির্বাচন হয়নি।
রাজনৈতিক প্রভেদ সরিয়ে বামআমলের প্রাক্তন সমবায় মন্ত্রী প্রয়াত সরল দেবের অবদান স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, কীভাবে সিপিএমের (CPIM) অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কাঁথি কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ARDB)-কে পুরোনো আইনের সেকশন সেভেনে এক বছরের এক্সেম্পশন (Exemption) দিয়েছিলেন সরল দেব। পাশাপাশি ২০০৬ সালে কো-অপারেটিভ অ্যাক্ট ও তার পরবর্তী নীতি নির্ধারণে বিরোধীদলের বিধায়ক হিসেবে তাঁর ও অশোক বসুর অবদানের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
গণতন্ত্রে সমবায়ের স্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, “সবাই বলে দেশে তিনটি সরকার আছে- কেন্দ্র, রাজ্য ও পঞ্চায়েত-পুরসভা। কিন্তু সংবিধানে স্বীকৃতি পাওয়া সমবায় ব্যবস্থা হল প্রকৃতপক্ষে দেশের ‘চতুর্থ সরকার’।” মোদি সরকারের আমলে সমবায় দফতরের আলাদা মর্যাদা প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে একটি ব্যক্তিগত ডিও চিঠি পাঠান, যাতে রাজ্য ও কেন্দ্রের সমবায়ের কাজে সমন্বয় রক্ষা করতে এক জন আইএএস অফিসারকে মনোনীত করা হয়। কেন্দ্রে মোদি সরকারের ৬টি স্কিম ও সর্বভারতীয় কম্পিউটারাইজেশন চালুর ফলে এই সেক্টরে নতুন দিগন্ত খুলে যাচ্ছে।
মহিলা কো-অপারেটিভ সমিতিকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য জেলায় সাধারণ সভার অনুমোদন ও বাই-ল সংশোধনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। আইনি শর্ত পূরণ হলে ফাইল ফেলে না রেখে দ্রুত এনওসি দিতে নিবন্ধক বৈভব চৌধুরীকে নির্দেশ দেন তিনি।
















