২০২১ সালের পর ২০১৬ সালেও বিধানসভায় নন্দীগ্রাম থেকে জিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে চলতি বছরে ভোটে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও জয়ী হওয়ায় নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে। উপনির্বাচনের আগে সোমবার  নন্দীগ্রামে প্রশাসনিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই অনুষ্ঠান থেকে নন্দীগ্রাম বিধানসভায় জনকল্যাণে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

একগুচ্ছ প্রকল্পের শিলান্যাস করা পাশাপাশি, এলাকায় ১১ হাজার ৭০০টি বাড়ি নির্মাণের কথাও জানান তিনি। নন্দীগ্রামে একটি নতুন দমকল কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রামে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উন্নীত করণ থেকে রেল প্রকল্পের বার্তা দিলেন প্রশাসনিক বৈঠক। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্যে উঠে এল উপনির্বাচনের কথাও।

 

 

সোমবার এই সভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,‘ "নন্দীগ্রামের মানুষের সঙ্গে আমার দু’দশকের সম্পর্ক। আজ নন্দীগ্রামের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজ নন্দীগ্রামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিন। ৩২টি রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার হচ্ছে। নন্দীগ্রামে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলছে আজ। নন্দীগ্রামে ১১ হাজার ৭০০ বাড়ি তৈরি হবে। নন্দীগ্রামে একটি দমকল কেন্দ্র উদ্বোধন করলাম।" একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, "পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পরিষেবা আরও সহজলভ্য করতেই একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।"

 

এর পাশাপাশি এদিনের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বিকশিত ভারত জি রাম জির আওতায় কাজ এবং অর্থ প্রকল্পের সূচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "নরেন্দ্র মোদির এই প্রকল্পের মাধ্যমে জব কার্ড ধারীরা বছরে ১২৫ দিনের কাজ পাবেন সমস্ত জব কার্ড হোল্ডারদের একাউন্টে সরাসরি বছরের ৩৪,৫০০ টাকা যুক্ত হবে। "

 

এর পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য অর্থ বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। "গ্রামোন্নয়ন এবং পঞ্চায়েত দফতরের পক্ষ থেকে গৃহ নির্মাণের সহায়তার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এর আগে প্রথম কিস্তি ৬০,০০০ টাকা পেয়েছিলেন সাধারণ মানুষ আজ ৭৩০০ উপভোক্তাকে দ্বিতীয় কিস্তির ৬০,০০০ টাকা হস্তান্তর করা হলো ।" তার বক্তব্যে উঠে আসে আয়ূষ্মান ভারতের প্রসঙ্গ। নন্দীগ্রামের একটা বড় অংশের মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক। তারা এই কার্ডের মাধ্যমে ভিন রাজ্যে হয়েছে চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন সেইকথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

 একইসঙ্গে পূর্বতন সরকারকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি তিনি। তাঁর অভিযোগ, "পূর্বতন সরকার নন্দীগ্রামের রেল প্রকল্পের জন্য জমি আটকে রেখেছিল। আমরা ইতিমধ্যেই ৬ একরের মধ্যে সাড়ে তিন একর জমি রেলকে দিয়েছি। বাকি জমিযও দ্রুত হস্তান্তর করা হবে। আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই নন্দীগ্রামে ট্রেন চালু হবে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমি প্রথম ট্রেনে চড়বো।"

 বক্তব্য শেষ পর্যায়ে তিনি উপনির্বাচনের প্রসঙ্গে আসেন। ফলতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন. ,"ফলতার থেকেও বড় ব্যবধানে এখানে জয় পেতে হবে। নন্দীগ্রামে আমাকে আপনারা ৮০ হাজার ভোটে জিতিয়েছিলেন এবার ব্যবধান আরও বাড়াতে হবে । রাজ্যের উন্নয়ন যেমন আমার প্রধান কর্তব্য তেমনি অগ্রাধিকারের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে এই নন্দীগ্রাম।"