খড়ের আকালে এবার পুজোর আগে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে মৃৎশিল্পীদের। প্রাক-পুজোকালীন সময়ে লাগাতার বর্ষণে পূর্ব মেদিনীপুর জেলাজুড়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় একপ্রকার বিঘ্নিত হয়েছে চিত্রকর পাড়ার কাজকর্ম। মজুত খড় ভিজে যাওয়ায় এবং বন্যার জেরে চাষিদের থেকে পর্যাপ্ত খড় না মেলায় চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন মৃৎশিল্পীরা।
হলদিয়ার চৈতন্যপুর এবং মহিষাদলের ইচ্ছাপুরের প্রায় ৩০টি পরিবার প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত। দুর্গাপুজোর প্রায় তিন মাস আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় প্রতিমা তৈরির প্রস্তুতি। প্রথমে কাঠামো তৈরির পর ক্রমে ক্রমে শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় রূপ পায় প্রতিমা। কিন্তু কাঠামো তৈরিতে প্রধান উপকরণ হিসেবে প্রয়োজন হয় খড়ের। বর্তমানে জেলাজুড়ে সেই খড়ের আকাল দেখা দিয়েছে। দুর্গাপ্রতিমা তৈরির জন্য শিল্পীরা যা খড় মজুত করে রেখেছিলেন বর্তমানের বন্যা পরিস্থিতিতে তার অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
কৃষকদের কাছেও মিলছে না পর্যাপ্ত খড়। যে পরিমাণ খড় রয়েছে তারও আবার আকাশছোঁয়া দর। অন্যান্য বছর ১ মণ খড় বিক্রি হত ৭০০-৮০০ টাকায়। চলতি বছর মূল্যবৃদ্ধি হয়ে সেটাই দাঁড়ায় ১০০০ টাকায়। লাগাতার বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতির পর সেই খড়ের দাম বর্তমানে একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০০-৫০০০ টাকা প্রতি মণ।
চৈতন্যপুরের শিল্পীপাড়ার বেশ কয়েকটি বাড়িতে এখনও জল জমে রয়েছে। ফলে প্রতিমার বরাত এসে গেলেও প্রস্তুতি নিয়ে একপ্রকার চিন্তায় শিল্পীরা। খড়ের পাশাপাশি অগ্নিমূল্য পাটের দড়িরও। ১২৫ টাকা কেজি দরে কেনা পাটের দড়ির দাম দ্বিগুণ হয়ে বর্তমানে ২৫০ টাকা। দাম বেড়েছে প্রতিমা তৈরির অন্যান্য সরঞ্জামেরও। চৈতন্যপুরের প্রতিমা শিল্পী মিলন চিত্রকর এ বছর ১৮টি বারোয়ারি প্রতিমার অর্ডার পেয়েছেন। যার অধিকাংশ ভিনজেলা থেকে। প্রতিমার ডেলিভারির ডেট রয়েছে মহালয়া থেকেই।
তবে বন্যা পরিস্থিতিতে থমকে গিয়েছে কাজ। জল জমেছে শিল্পীর বাড়িতেও। এই পরিস্থিতিতে মিলন জানান, আগে আমাদের এখানে এভাবে জল জমা হয়নি। সর্বোপরি মূল উপকরণ খড়ের যেভাবে দাম বেড়েছে তাতে খুব মুশকিলে আছি। এছাড়াও প্রতিমার গয়না তো আছেই। অন্যদিকে এবছর পুজোতে সরকারি অনুদানের অনিশ্চয়তায় পুজো কমিটিগুলিও কিছুটা কাটছাঁট করেছে বাজেটে।
আগে যেখানে শিল্পীদের কাছে ৮০-৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিমার জন্য বরাত আসত এখন সেটা কমে ৪০ হাজার টাকায় ঠেকেছে। প্রতিমা শিল্পী পঙ্কজ চিত্রকর জানান,এবছর উদ্যোক্তাদের বাজেট অনেকটাই কম। তার মধ্যেই প্রতিমা তৈরি করতে হচ্ছিল। কিন্তু যেভাবে অতিবৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হল তাতে আমাদের সংসারেও টান পড়েছে। খড় এবং যাবতীয় সামগ্রী কিনে তেমন লাভ থাকবে না প্রতিমা বিক্রি করে। সবমিলিয়ে বন্যা পরিস্থিতি কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে মৃৎশিল্পীদের কপালে।
















