অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) আপ্ত-সহায়ক সুমিত রায়ের আগাম জামিন মামলার শুনানিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (Chief Justice Surya Kant) বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’ (Leaps and bounds) সংক্রান্ত তদন্তের প্রসঙ্গ সামনে আসতেই তদন্তের গতি ও পদ্ধতি নিয়ে সরব হন বিচারপতিরা। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর (Justice Joymalya Bagchi) মন্তব্যে উঠে আসে, তদন্তের ক্ষেত্রে কখনও অস্বাভাবিক ধীরগতি আবার কখনও অতিরিক্ত সক্রিয়তার অভিযোগ।
আদালতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা (Solicitor General Tushar Mehta) দাবি করেন, একটি রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’-এর মতো একটি সংস্থার অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল। সেই সওয়ালের প্রেক্ষিতেই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’-এর প্রসঙ্গ যত কম টানা যায় ততই আপনাদের জন্য ভালো।” তাঁর পর্যবেক্ষণ, এই সংস্থাকে ঘিরে তদন্তের ক্ষেত্রে অতীতেও কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং কলকাতা হাইকোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চ একাধিকবার নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতির কথায়, “তদন্তকারী এজেন্সি কখনো অদ্ভুতভাবে শ্লথ হয়ে গিয়েছে। আবার কখনও সময়ে-সময়ে অতি তৎপর হয়ে ওঠে। তদন্তের ক্ষেত্রে সব সময় একটা নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা থাকা উচিত।”
সুমিত রায়ের পক্ষে আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ (Lawyer Gopal Sankaranarayanan) আদালতে অভিযোগ করেন, ১১ দিন ধরে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও যে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে, সেই মূল বিষয়টি নিয়ে তাঁর মক্কেলকে কোনও প্রশ্ন করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিয়োগ্রাফিও রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। যদিও সেই দাবি মানতে নারাজ সলিসিটর জেনারেল। তুষার মেহতা বলেন, “তাঁকে প্রাসঙ্গিক সব প্রশ্ন করা হয়েছে। সেই প্রমাণ আছে। আমরা আদালতে সব জমা দেব।” তাঁর দাবি, ১০ লক্ষ টাকা জমার তথ্য মিলেছে এবং আরও প্রায় দু কোটি টাকা অন্য একটি অ্যাকাউন্টে জমা পড়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর জিজ্ঞাসাবাদের ট্রান্সক্রিপ্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আগাম জামিন সংক্রান্ত এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সোমবার।
















