ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই গুন্ডা দমন আইন চালু করেছিল রাজ্যের বিজেপি সরকার। উদ্দেশ্য ছিল পুলিশের হাতে বেশি ক্ষমতা দেওয়া। কিন্তু গুন্ডা দমন আইন চালু করার পর পুলিশের ক্ষমতা কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে, তবে স্থানীয় স্তরে কিছু মানুষ যে খাপ পঞ্চায়েত বসানো বা তাণ্ডব চালানোর লাইসেন্স পেয়েছেন তা আরও একবার প্রমাণিত হল।
দক্ষিণ দমদম পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের একটি পানশালায় ভয়াবহ তাণ্ডব চালালো একদল মানুষ।এলাকায় এই হোটেলটির বদনাম রয়েছে। বিভিন্ন অনৈতিক কাজের অভিযোগ আছে। ফলে হোটলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। এতদিন পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ না জানিয়ে স্থানীয় কিছু মানুষ রবিবার হোটেলে ঢুকে প্রতিবাদের নামে তাণ্ডব চালালেন।
পানশালার মধ্যে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে নিজেই আইন হাতে তুলে নিলেন। প্রতিবাদের নামে তাণ্ডব, ভাঙচুর, এমনকি পানশালায় অতিথিদের মারধর করতে বাকি রাখলেন না। পানশালাকে নিয়ে অভিযোগ থাকতেই পারে তার জন্য পুলিশ প্রশাসন আছে। স্থানীয় বিধায়ক বা সাংসদও আছে। কিন্তু প্রতিবাদকারীদের আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার দিল কে?
রবিবার বিকেলের দিকে পানশালার মধ্যে প্রবেশ করেন ৩০-৩৫ জন বহিরাগত ।এরপরই শুরু হয় তাণ্ডব। সেই সময় পানশালার মধ্যে অনেকেই ছিলেন। হামলাকারীদের অভিযোগ এই পানশালাকে কেন্দ্র করে নানান ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ড হত। প্রতিবাদকারীদের মধ্যে থাকা এক মহিলা সংবাদ মাধ্যমে জানালেন, “আশেপাশের মানুষরা নানা অভিযোগ করত। তাই আমরা সরকারের পক্ষ থেকে এগুলি বিরোধিতা করার জন্য একসঙ্গে জড়ো হয়েছি। আমরা চাইছি এই বিষয়গুলি বন্ধ হোক। মানুষ শান্তিতে বসবাস করুক।“ তাঁর বক্তব্যে উঠছে প্রশ্ন, তারা কী করে সরকারের প্রতিনিধি হলেন!
অন্য একজন হামলাকারীর মুখে আবার যোগী রাজ্যের লাভ জিহাদের বুলি। তিনি জানিয়েছেন, “বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশেই এই পানশালা রয়েছে। এখানে মেয়ে পাচারের ঘটনা ঘটে। এমন কি বেআইনি অস্ত্র কারবার হয়। আমরা খবর পেয়ে অভিযান চালালাম। তার থেকে বড় কথা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে লাভ জিহাদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু আমরা একাধিক ঘরে গিয়ে দেখলাম অনেক জায়গাতেই ভিন্ন সম্প্রদায়ের দুজন পুরুষ এবং মহিলা একসঙ্গে মদ্যপান করছেন। আমরা প্রতিবাদ করতে বাধ্য হলাম।”
এই রাজ্যে পালাবদলের পর যোগী মডেলে লাভ জিহাদ শুরু হয়েছে। যার উদ্দেশ্য অল্প বয়সী তরুণ তরুণীদের স্বাধীনতায় হস্থক্ষেপ করা। তাদের বিব্রত করা। সেই ঘটনাই ঘটল পানশালাতে। কী কার সঙ্গে কী খাবে সেটা তাঁর ব্যক্তিগত অধিকার।
অশান্তির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। কিন্তু পুলিশ আসতেই তাণ্ডবকারীরা এলাকা থেকে চলে যায়। এরই মধ্যে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। খবর পেয়ে যাবেন ঘটনাস্থলে আসেন এই পানশালার মালিক। তিনি সিসিটিভি ফুটেজে দেখেন একাধিক ঘরে হামলা চালানো হয়েছে এবং তিন তলার একটি ঘরে একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। যেহেতু তার সঙ্গিনী ভিন্ন ধর্মের ছিলেন বলেই তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই পানশালার মালিক জানিয়েছেন, “আমি তখন দুপুরে খাবার খাচ্ছিলাম আমার কাছে ফোন আসে যে পানশালার মধ্যে তান্ডব চালানো হচ্ছে। আমি দ্রুত আসি দেখি এখানে বাইরে ১০০ ১৫০ জন ছেলে জড়ো হয়েছে। এমনকি মহিলারা রয়েছে। হোটেলের অতিথিদের মারধর করা হচ্ছে।”
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যদি কোনও অনৈতিক কাজ হয়েও থাকে তহলেও কীভাবে এমন তান্ডবের সাহস পেলেন স্থানীয়রা? তান্ডবকারীরা কীভাবে শাস্তি ঠিক করলেন? পানশালায় অনৈতিক কাজ হলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে, কিন্তু যারা প্রতিবাদের নামে আইন হাতে তুলে নিলেন তাদের শাস্তি হবে কি?
















