ঘটা করে মিড ডে মিলের বরাদ্দ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। বর্ধিত টাকা তো দূরের কথা, বেশ কিছু জেলায় জুন মাস থেকেই মিলছে না মিড মিলের টাকা। মে ও জুন মাসের বকেয়া টাকাই এখনও হাতে পায়নি কলকাতারও বহু স্কুল। বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামের মতো জেলাগুলি থেকে অভিযোগ আসছে, তারা মে মাস থেকে মিড ডে মিলের টাকা পায়নি। ফলে উৎসবের মরশুমে পড়ুয়াদের মুখে পুষ্টিকর খাবার তুলে দেওয়া তো দূরের কথা, বকেয়া মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন প্রধান শিক্ষকরা। ক্ষমতা দখলের পর থেকেই একের পর এক মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছে বিজেপি সরকার। সম্প্রতি রাজ্য সরকার মিড ডে মিলের দৈনিক বরাদ্দ ৬ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করার কথা ঘোষণা করেছিল। বলা হয়েছিল, ১ অগাস্ট থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হব। কিন্তু মাস ফুরিয়ে গেলেও বর্ধিত টাকার কোনও দেখাই নেই। মিড ডে মিলের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের প্রশ্ন, পকেটে টাকা না থাকলে বাজার থেকে জিনিস আসবে কীভাবে? মিড ডে মিলের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকরা বলছেন, এই পদ্ধতিতে নিয়মিতভাবে টাকা আসা খুবই দরকার। কারণ এটি একটি রেকারিং খরচ। এককালীন যে খরচগুলি রয়েছে, সেগুলিতে দেরি হলেও চরম সংকট তৈরি হয় না। তবে, এক্ষেত্রে হচ্ছে। 

রাজ্যের ৮৩ হাজার ৪২০টি স্কুলে মিড ডে মিল চলে। এর মধ্যে চারটি জেলা মিলিয়ে ১৯ হাজার ৬৭৮টি স্কুল তিন মাসের বকেয়া পায়নি বলে অভিযোগ। ফলে জেলাগুলির দোকানদার, সবজি বিক্রেতারাও সমস্যায় পড়ছেন। তাঁদের সাফ দাবি, মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এভাবে চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব। এদিকে বাস্তবে কম পড়ুয়ার স্কুলে বিনামূল্যে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার পাশাপাশি আলু বা অন্যান্য জিনিসও বিনামূল্যে দেওয়া উচিত। তা তো হচ্ছেই না। উলটে টাকাই আটকে রয়েছে।

মিড ডে মিলের মেনু নিয়ে ইসকনকে দায়িত্ব দেওয়া এবং ডিম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী পরে ঘোষণা করেন যে ডিম স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে আলাদা করে দেওয়া হব। কিন্তু যেখানে মে-জুন মাসের মূল টাকাই মেলেনি, সেখানে ডিম দেওয়ার এই নতুন ফর্মুলা যে কেবলই একটি রাজনৈতিক নাটক, তা বুঝতে বাকি নেই সচেতন মহলের। বিজেপির এই ‘দ্বিমুখী নীতি’ এবং ‘মিথ্যে প্রতিশ্রুতির’ তীব্র সমালোচনা করে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটের আগে যারা বড় বড় কথা বলেছিল, এখন তারাই রাজ্যের গরিব শিশুদের পুষ্টির অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। একদিকে ইসকনের সাত্বিক খাবারের নাম করে পুষ্টিতে কোপ মারার চেষ্টা, আর অন্যদিকে বকেয়া টাকা আটকে রেখে স্কুলগুলিকে কার্যত ভাতে মারার চক্রান্ত চলছে।