ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা-পদ্মার জল ভাগাভাগি সংক্রান্ত চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে আগামী ডিসেম্বরে। তার আগেই নতুন চুক্তির শর্ত নির্ধারণে পশ্চিমবঙ্গের নদী, বন্দর, পরিবেশ এবং শিল্পের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানাল রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের কাছে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে প্রস্তাব পাঠানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ কমিটির কাছেও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন রাজ্যের প্রতিনিধিরা।
রাজ্যের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ শুষ্ক মরশুমে ফরাক্কা ব্যারাজ (Farakka Barrage) হয়ে ভাগীরথী-হুগলিতে প্রয়োজনীয় জলপ্রবাহ বজায় রাখা। পর্যাপ্ত জল না থাকলে হুগলি নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরের জাহাজ চলাচলে। একই সঙ্গে গঙ্গার দু’পারের মালদা, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলায় নদীভাঙন এবং পলি জমার সমস্যার কথাও কেন্দ্রের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। রাজ্যের বক্তব্য, জলপ্রবাহ ও নদীর স্বাভাবিক গতিপথের প্রশ্নে যথাযথ পরিকল্পনা না হলে বন্যা পরিস্থিতিও আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
পানীয় জল এবং শিল্পের ভবিষ্যৎ প্রয়োজনকেও নতুন চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছে রাজ্য। ভূগর্ভস্থ জলস্তর ক্রমশ কমার পাশাপাশি একাধিক এলাকায় আর্সেনিকের সমস্যার কারণে গঙ্গার জল পরিশোধন করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে আগামী দিনের জলচাহিদা মাথায় রেখে পরিবেশ রক্ষা, নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত জলপ্রবাহের বিষয়গুলি চুক্তিতে গুরুত্ব পাওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের প্রশাসনিক পর্যায়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন বলেও মত রাজ্যের। এর মধ্যেই দুই দেশের প্রযুক্তিগত দল ফরাক্কা এবং হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় গঙ্গা-পদ্মার জলপ্রবাহ সংক্রান্ত পরিমাপ ও তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। সেই তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট আলোচনা আগামী দিনের জলবণ্টন চুক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
















